
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মাঝেই আকস্মিক সৌদি সফরে ম্যাক্রোঁ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১১

বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদের পর অস্থায়ী শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১১০০-র বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০-র বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয় আসাম সরকার। বন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম স্ক্রলকে এ তথ্য জানান।
প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবার বনভূমি দখল করে বসবাস করছিল। এটি ছিল উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিন।
এর আগের দিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) আসামের তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, গোলাঘাটে ৫৯টি এবং হোজাইয়ে ১৫২টি পরিবার রয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এসব উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
লুতুমারির পরিবারগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা নিজেদের বনভূমি দখলকারী বলে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, সরকারই তাদের সেখানে বসতি গড়ে দিয়েছিল।
রোববার যাদের বাড়ি ভাঙা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূর। তিনি স্ক্রলকে বলেন, ১৯৭৪ সালে তাদের সেখানে বসতি গড়ে দেওয়া হয়েছিল।
নূর বলেন, তাদের আদি বাড়ি কাছের জুরিয়া শহরে। পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন হওয়ায় সরকার তাদের সেখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করে। সব মিলিয়ে ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তারা গৌহাটি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তাদের কোনো প্রতিকার দেননি।
নূরের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
তিনি বলেন, তারা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সে কারণেই অনেককে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
জুন মাসে অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল আসাম সরকারকে লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রামবাসীদের প্রস্তাবিত উচ্ছেদ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।
সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, ওই এলাকার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ঔপনিবেশিক আমলের ‘তাউঙ্গিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বসতি স্থাপন করানো হয়েছিল। তাই তাদের সাধারণ বনভূমি দখলকারী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
তাউঙ্গিয়া পদ্ধতিতে বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ বন বিভাগের হয়ে কাজ করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গাছের সঙ্গে খাদ্যশস্যও চাষ করতেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ব্রিটিশরা এ পদ্ধতি চালু করে। পরে আসামের কিছু এলাকাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
স্ক্রলের তথ্য অনুযায়ী, আসামের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোর দেওয়া তথ্য বলছে, রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসনের গত ১০ বছরে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মুসলিম।