
সৌদি আরবকে বাঁচাতে ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৪

ইসরাইলে জাতীয় ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ভয়াবহ হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলার ঘটনা ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এর জেরে গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরাইল, যা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়।
জনমত জরিপগুলোতে যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরাজয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত খণ্ডিত হওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণ বেশ জটিল। এই অবস্থায় যেকোনো দলই ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারেন।
ধারাবাহিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছেন। ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে নেতানিয়াহু প্রশ্নের মুখে রয়েছেন। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনসমর্থন থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর ইসরাইলিদের আস্থা বেশ কম।
এ ছাড়া ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের নীতি অনেক ইসরাইলির কাছে অজনপ্রিয়। তবে ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই নেতা রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে টিকে থাকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। এ ছাড়া, তার বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় ফেরবে এমন স্পষ্ট পথও আদতে দেখা যাচ্ছে না।
ইসরাইলের নির্বাচন ব্যবস্থা সংসদীয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের নির্বাচন সাধারণত প্রতি চার বছর পর হওয়ার কথা। যদিও ইসরাইলের ইতিহাসে বেশির ভাগ পার্লামেন্টই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইল স্বল্পস্থায়ী সরকার ও ঘন ঘন নির্বাচনের চক্রে আটকা পড়ে। একই বছর নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম কট্টর ডানপন্থি সরকার।
ইসরাইলে জাতীয় ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দলকে নেসেটে আসন পেতে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ (অন্তত চারটি আসনের সমান) পেতে হয়।
দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একাধিক দলের জোট গঠন করে সরকার পরিচালনার ফলে জোটের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সরকারের পতন হয়।
এ কারণে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং সরকার কত দিন টিকবে, তা নির্ধারণে ছোট ছোট দলগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রায়ই বিভিন্ন ছোট দলের দাবির সঙ্গে একমত হতে হয়।
রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থি ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন। এসব দলের অন্যতম দাবি ছিল, তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়া। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় এ বিষয়টি ইসরাইলে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে তার নিজের ডানপন্থি লিকুদ পার্টি, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার পার্টি।
এছাড়া চরমপন্থি ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস ২০২৪ সালে সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও পরোক্ষভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।
বর্তমান যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট ‘টুগেদার’ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল আওয়ার হোম।
এ ছাড়া দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্বকারী চারটি দল—হাদাশ, তাল, রাম ও বালাদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টি নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স