
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৩

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নতুন নির্বাচনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পক্ষে মত দেয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি যোগ্য মনে করছেন বেশিরভাগ ইসরাইলি। নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
লাজার রিসার্চের নেতৃত্বে এবং প্যানেলফোরঅল-এর সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালিত হয় যা গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্থানীয় মারিভ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো পক্ষ সুস্পষ্ট ফল অর্জন করতে না পারলে ৫৫ শতাংশ ইসরাইলি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পক্ষে। বিপরীতে, ২৭ শতাংশ নতুন নির্বাচনের পক্ষে। আর ১৮ শতাংশ এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন।
তবে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিরোধী জোটের ৫৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তাদের জোটের কোনো নেতা সরকারের প্রধান হলে তবেই তারা ঐক্যের সরকারকে সমর্থন করবেন।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থকদের প্রায় ৪০ শতাংশ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ঐক্যের সরকার চান। আর ৩২ শতাংশ ভোটার রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে নতুন নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকট এগিয়ে
প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়েও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গাদি আইজেনকট। জরিপে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকট ভালো প্রধানমন্ত্রী হবেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪১ শতাংশ।
তবে বিয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে তুলনায় দুজনই ৪৩ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে তুলনায় অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন নেতানিয়াহু। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৩ শতাংশ এবং লিবারম্যানের পক্ষে ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, তারা যে রাজনৈতিক জোটকে ভোট দেবেন, সেই জোটই নির্বাচনে জয়ী হবে। বিপরীতে, ২১ শতাংশ নিজেদের পছন্দের জোটের জয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ নিজেদের জোটের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিরোধী জোটের সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৭৫ শতাংশ।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা কমে ৫১-এ দাঁড়িয়েছে। ফলে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাওয়ার অবস্থানে নেই।
জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি দুই আসন হারিয়ে ১৮টিতে নেমেছে। তবে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম এক আসন বেড়ে আটটিতে পৌঁছেছে এবং পিপল অব ইসরাইল পার্টি চার আসন নিয়ে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করায় ক্ষমতাসীন জোটের মোট আসন কমেছে মাত্র একটি।
অন্যদিকে ইসরাইল বেইতেনু এক আসন হারিয়ে আটটিতে নেমে আসায় বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাও এক কমে ৫১ হয়েছে।
রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি চারটি আসন পেয়ে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করেছে। তবে দলটিকে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী কোনো জোটের হিসাবে ধরা হয়নি। দলটি যেকোনো এক পক্ষের সঙ্গে যুক্ত হলেও সেই জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাবে না।
জরিপ অনুযায়ী, দলভিত্তিক সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হলো: ইয়াশার: ২১, লিকুদ: ১৮, বিয়াখাদ: ১৩, ডেমোক্র্যাটস: ৯, ইসরাইল বেইতেনু: ৮, ওতজমা ইয়েহুদিত: ৮, জয়েন্ট লিস্ট: ৮, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম: ৮, শাস: ৭, রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি: ৬, রাআম: ৬, পিপল অব ইসরাইল: ৪ ও রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি: ৪।
ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট জরিপে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার দল ২১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট, হারেদি পাবলিক, নোআম ফর ইসরাইল এবং তজোমেত বেইত ইসরাইল নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। জরিপে সিদ্ধান্তহীন ভোটারের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক দর-কষাকষি শুরু হতে পারে।
তথ্যসূত্র: জেরুজালেস পোস্ট