
ইয়েমেনের সানায় সৌদি বিমান হামলায় ১১ জন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৫

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলো হলো জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরান ও তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করে হামলার হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্ট হুমকির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্যবস্তু করার ইরানি প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের প্রাণঘাতী হামলার লক্ষ্যবস্তু করার ষড়যন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন মার্কিন কর্মকর্তা স্মারকলিপি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় চার দেশের মার্কিন দূতাবাসে ইতোমধ্যে সীমিত কর্মী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে দূতাবাসগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না। সৌদি আরবের মতো এসব দেশ থেকে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়নি।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি আরবে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
চার দেশে দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রথমে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বেড়ে যাওয়া হুমকির কথা উল্লেখ করে। তখন মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরানি ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও হুতিদের উভয় পক্ষের হুমকিই এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলা চালাতে পারে- তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাকের এমন ইঙ্গিতের পর মধ্যপ্রাচ্যে দূতাবাস কর্মীসংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বিমান হামলার জবাবে হুতিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও রয়েছে।