
নির্বাচনে হেরে ইরানে ‘বড় ধরনের আঘাতের’ ইঙ্গিত ট্রাম্পের
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০:২১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে ব্যালটপেপার পূরণ করছেন ভোটার। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে এবার তুরুপের তাস বা সুইং ভোটার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন লাতিনো ভোটাররা। নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির চেয়েও সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টার, সিবিএস নিউজ ও আলজাজিরাসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপ ও বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্যতম শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৮৬ শতাংশ নিবন্ধিত লাতিনো ভোটারের কাছে এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচও তাদের অন্যতম উদ্বেগের কারণ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনেও লাতিনো ভোটারদের এই অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিচালিত নতুন জরিপে লাতিনো ভোটারদের প্রধান দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয় বা ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনীতি।
একসময় লাতিনোদের কাছে অভিবাসন নীতি বা সীমান্ত নিরাপত্তা অন্যতম বড় ইস্যু হলেও, বর্তমানে তা অনেকটাই পিছিয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে লাতিনো ভোটারদের এই পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, একসময় রিপাবলিকানদের জন্য অভিবাসন নীতি বা আইসিই ইস্যুটি লাতিনোদের ভোট টানার ক্ষেত্রে যতটা কার্যকর ছিল, এখন সেটি আছে কি না। কারণ বর্তমানে লাতিনোদের কাছে অভিবাসন নীতির চেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
তবে অর্থনীতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও এই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনো দলের প্রতিই পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ লাতিনো অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন ইউনিডোসইউএস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লাতিনো ভোটাররা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান উভয় দলের প্রতিই আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে একটি বড় অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দল দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে, তারা এই ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। মার্কিন রাজনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ভোটব্যাংক এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের ভবিষ্যৎই নয় বরং মার্কিন রাজনীতির পরবর্তী রূপরেখাও নির্ধারণ করে দিতে পারে।