
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪১

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। ছবি: এপি
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিউল জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়ানোর লক্ষ্যে পিয়ংইয়ংকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী কিম হং-চোল সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হবে দুই দেশের স্থলসীমান্তের সামরিক বিভাজন রেখার সুনির্দিষ্ট অবস্থান পারস্পরিকভাবে নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা এবং সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক সংঘর্ষ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান পানমুনজমের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে। দুই কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই যুদ্ধবিরতি গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কিম হং-চোল আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনাতেও দক্ষিণ কোরিয়ার আপত্তি নেই। এ প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে পিয়ংইয়ং আলোচনায় সম্মত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে প্রায় সব ধরনের সংলাপ ও সহযোগিতা স্থগিত রেখেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যেই সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানান, সীমান্ত এলাকায় নতুন সামরিক ইউনিটকে ‘গুলি চালানোর অবস্থানে’ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় মাইন, কাঁটাতারের বেড়া, সামরিক চলাচলের সড়ক, ট্যাংকবিধ্বংসী দেয়ালসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অবকাঠামোও স্থাপন করা হয়েছে।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ওই সময় পশ্চিমাঞ্চলীয় অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) সামরিক বিভাজন রেখার কাছে বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন।
বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইনকে দায়ী করে সিউল। এ ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানায় দক্ষিণ কোরিয়া। তবে অভিযোগটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত বছরও উত্তর কোরিয়াকে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পিয়ংইয়ং কোনো জবাব দেয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়াকে আবারও সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কিম ইয়ো জং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাবকে ‘প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায়’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এ অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রস্তাব সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর। দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হলে সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে নতুন সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।