
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প, স্বস্তি পেল ভারত-চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা থামছেই না। ছবি: এক্স থেকে
হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে ধাক্কায় ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকারটি প্রণালির একটি অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে চলার উদ্দেশ্যে ট্যাংকারেটি ইচ্ছাকৃতভাবে তার অবস্থান শনাক্তকারী ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষায় জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে এবং সামুদ্রিক বিধি না মেনে চলার কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে। তবে ট্যাংকারেটির নাম, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা থামছেই না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধে কোনো ইরানি জাহাজ আর জলপথ পার হতে পারছে না।
গত এক সপ্তাহে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সহায়তার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে ইরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল রফতানি ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরানও। ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্ড বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো হুমকি দিলে দ্রুত ও যথাযথ জবাব দেয়া হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না তেহরান।
পেজেশকিয়ানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মানবিক কাঠামোর বাইরে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো অন্যায্য ও অমানবিক। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য ইরান সবসময় প্রস্তুত ছিল, তবে শক্তি প্রয়োগ করে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্র পরিবেশও পড়েছে বড় ঝুঁকিতে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলবাহী জাহাজে বড় ধরনের হামলা হলে আগুন, জাহাজ ডুবে যাওয়া কিংবা ভয়াবহ তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।