
ইসরাইলকে ‘পোড়ামাটিতে’ পরিণত করার হুমকি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫

ইসরাইলের ইসলামপন্থি আরব নেতা মনসুর আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না থাকার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন ইসলামপন্থি আরব নেতা মনসুর আব্বাস। বিরোধী জোটের সরকার গঠনে তার সমর্থন নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে তাকে ঘিরে ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরাইলের ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাম) দলের নেতা মনসুর আব্বাসকে দেশটির রাজনীতিতে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অবস্থান এবং আরব নাগরিকদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাকে ইহুদিদের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইসরাইলের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী জোট যদি মনসুর আব্বাসের সমর্থন না পায়, তাহলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা কঠিন হতে পারে। এর আগে ২০২১ সালে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটে যোগ দিয়েছিলেন আব্বাস। ওই রাজনৈতিক সমীকরণেই নেতানিয়াহুর সরকারের পতন ঘটে।
অনেকে মনসুর আব্বাসকে ইসরাইলের অন্যতম কৌশলী রাজনীতিক মনে করেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই হামলার পর ইসরাইলের অনেক ইহুদি নাগরিক আরব ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
এ পরিস্থিতিতে ৫২ বছর বয়সী মনসুর আব্বাস ইহুদি নাগরিকদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের জন্যই ক্ষতি ডেকে আনবে। এ অবস্থানের কারণে হামাসের সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছেন আব্বাস। নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা তাকে সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে, হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর কারণে কেউ কেউ তাকে বিশ্বাসঘাতক বলেও আখ্যা দিয়েছেন। আরব দলগুলোর নেতারাও তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।
গ্যালিলি অঞ্চলের দ্রুজ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর মাঘারে জন্ম মনসুর আব্বাসের। শুরুতে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা ছিল না তার। দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন তিনি। পরে মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৯ সালে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রবেশ করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার সমর্থন নেতানিয়াহুর বিরোধীদের জন্য সরকার গঠনের পথ সহজ করতে পারে, আবার সেই সমর্থনকে ঘিরেই ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কও তৈরি হতে পারে।