
নতুন নীতিভারতে আন্দোলনে জড়িতদের মিলবে না সরকারি চাকরি!

বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য এই অভিযান কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। পাশাপাশি ইরানের পাল্টা হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছে আঞ্চলিক দেশগুলো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কূটনীতিকের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা হামলা চালালে তার জন্যও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, বরং জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও আঘাত হানতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মিত্র দেশগুলোকে।
কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযান কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা শুরু করলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। তবে তিনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সম্ভাব্য অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো পরিষ্কার নয়।
এপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরপরই অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর কতটা রয়েছে, তা-ও নিশ্চিত নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে গত মাসের শেষ দিকে পেন্টাগন ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিসহ কয়েকটি উভচর সামরিক জাহাজ এবং মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে। এসব সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা এর আগে জানিয়েছিলেন, এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সেখানে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হলেও নতুন অভিযান কখন শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন হামলার হুমকির মধ্যেও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কূটনীতিকে সফল হওয়ার সুযোগ দিতে চায় তেহরান।
গত মাসে যুদ্ধবিরতিতে ফেরার লক্ষ্যে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ইরান এখনো সেটিকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চায়।