
৯ দিনের মাথায় ফের কমলো স্বর্ণের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮

বছর ব্যবধানে জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ।
গত দুই মাসে এলসি খোলার হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও বেড়েছে এলসি।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে অস্থিরতা রয়েছে বিশ্ববাজারে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের আমদানি বাণিজ্যেও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস- জুলাই ও আগস্টে ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। এসময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত জুলাই-আগস্টে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ১২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর নিষ্পত্তি হয়েছে ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে শিল্পায়ন ও উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে। এ খাতে খোলা হয়েছে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি। বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম।
তবে জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির এলসি খোলায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি। যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এ খাতে এলসি খোলার পরিমাণ ৬২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে বৈশ্বিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রফতানি খাত চাঙ্গা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। বছর ব্যবধানে গত আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫ শতাংশ। যদিও নিষ্পত্তি কমেছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে রফতানি খাতে যেন কোনো ধরনের বাধা না আসে। আমি মনে করি, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার সংখ্যা বাড়ছে এটি ভালো সংবাদ। তবে একইসঙ্গে আমাদের নিষ্পত্তিতেও অগ্রগতি দেখাতে হবে।
এদিকে, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে খোলা হয়েছে ৪২১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি। বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তি ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমে নেমেছে ৩৮০ কোটি ২০ লাখ ডলারে।