
উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৮

জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্যও ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠা এবং সরবরাহে বিঘ্ন মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার যখন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) মার্চে চালু করা একটি পরিকল্পনার আওতায় তেলের মজুত ছাড়ার গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পর বুধবার তেলের দাম কমে স্থির হয়।
তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
উপসাগরীয় উৎপাদকরা রফতানি বাড়ানোর পর গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারের ওপর হামলা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সপ্তাহের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ বাড়লেও হামলা বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও নাবিকদের জন্য খরচ এবং ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে।
সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি ট্যাংকার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে বুধবার জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি।
ব্যাংক এএনজেডের সিনিয়র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হাইন্স বৃহস্পতিবার এক নোটে বলেন, অতীতে এ ধরনের হামলার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেল চালান কমে গেছে। এবার উৎপাদকরা তাদের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেল পৌঁছে দেয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
হাইন্স আরও বলেন, আইইএর তেল ছাড়ার মধ্যে সম্ভবত সেই ব্যারেলগুলোই থাকবে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর সময় সংস্থাটির মূল ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ ছিল। অর্থাৎ, কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত কোনো তেল উত্তোলন করা হবে বলে মনে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘পরিশেষে, কৌশলগতভাবে মজুত পণ্য ছাড়ার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সরবরাহ প্রবাহ বাড়ানো গেলেও, তা নতুন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে না।’
বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা ও উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও তেলের দামের জন্য সহায়ক হয়েছে। দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। তবে ডিজেলের মজুত কমেছে সামান্য।
বুধবার এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানায়, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় বছরের এই সময়ে এ মজুত অনেক কম।