
পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
নূরে আলম
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৪৪

চলতি বছর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। বছরের পর বছর পাসের হার বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষা গবেষকরা। অন্যদিকে, পড়াশোনা না করে ভালো ফল করার সুযোগ এখন আর নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী। গত দুই দশকের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। তবে অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি থাকায় ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এক অভিভাবক বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়নি, অথচ যুদ্ধে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তারা যুদ্ধে হেরে গেছে।’
শিক্ষকরা বলছেন, পড়াশোনা না করে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিন শেষ। ভালো ফল করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসেও উপস্থিত থাকতে হবে। এক শিক্ষক বলেন, ‘অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে। নিয়মিত ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া ভালো ফল করা সম্ভব নয়।’
আরেক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী আরও ভালো করুক। তবে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।’
এবার ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজিতে ফেল করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। সারাদেশে এ দুটি বিষয়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই বলে মনে করছেন শিক্ষা গবেষকরা।
গবেষকদের মতে, বছরের পর বছর শুধু পাসের হার বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এবারের ফলাফলই বলে দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শিখনপদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও সামগ্রিক শিক্ষাকাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতির চেয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটি আরও বেশি। প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো লিখতে, বলতে কিংবা গাণিতিক হিসাব করতে পারে না। ফলে মাধ্যমিকে ওঠার সময়ই তাদের মধ্যে শিখনঘাটতি তৈরি হয়। আবার মাধ্যমিক থেকে কলেজে যাওয়ার সময়ও সেই ঘাটতি রয়ে যায়।’
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।