
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ভিসিকে ভবনের ভেতরে রেখে তালা দিলো চুয়েট শিক্ষার্থীরা
প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম ও তার ‘সুইসাইড নোট’। ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট ও ঋণের তালিকা পাওয়া গেছে।
এ দিকে তাকে খুঁজে পেতে সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তার সন্ধান চেয়ে জরুরি বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বার্তায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীর নিখোঁজের বিষয়টি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকেও অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সুইসাইড নোটে বিভাগের অবহেলার বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন। এরপর তার আবাসিক কক্ষে সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নোটে তিনি নিজের জীবন নিয়ে চরম হতাশার কথা লেখেন এবং কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলার অভিযোগ করেন। তার মরদেহ পাওয়া গেলে সহপাঠীদের উদ্দেশে শিক্ষকদের মধ্যে তা ভাগ করে দেয়ার কথাও লেখেন তিনি। পাশাপাশি নিজের কিছু ঋণ এবং বিভিন্ন জায়গায় পাওনা টাকার কথা উল্লেখ করে আলাদা একটি তালিকা রেখে যান।
তবে নোটে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর মোহাইমিনুল চাপে ছিলেন, দাবি সহপাঠীদের
মোহাইমিনুলের এক বন্ধু ও একই বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জানান, চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিং জিওলজি কোর্সে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। এর আগে কোনো কোর্সে ফেল করার অভিজ্ঞতা তার ছিল না। পরে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে মাস্টার্সের ক্লাস করছিলেন। বিশেষ পরীক্ষা দিয়ে মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
ওই বন্ধুর ভাষ্য, বিষয়টি সমাধানে তিনি বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু স্পষ্ট সমাধান না পাওয়ায় তার একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
একই কোর্সে অকৃতকার্য আরেক শিক্ষার্থী জানান, বিশেষ পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি না পাওয়ায় আপাতত পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব নয় বলে বিভাগের সভাপতির কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন। বিশেষ পরীক্ষা হলে মাস্টার্সের ফল আটকে যেতে পারে বলেও তাদের জানানো হয়।
তার দাবি, মাস্টার্সের ক্লাস, টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি সম্পন্ন করার পরও বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় পড়াশোনা ও চাকরির আবেদনে জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীর সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে। তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিমের ০১৭১৪০১২৩১৫ নম্বরে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরীর ০১৭১২৬৭৪৫৫৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মোহাইমিনুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার হাজরা বাড়ি।