
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ
গোলাম নবী দুলাল, দিনাজপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৭

বড়পুকুরিয়া কয়লার খনি। ছবি: সময় সংবাদ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির স্টক ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ কয়লা মজুত রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লা না নেয়ায় খনি এলাকায় জমেছে কয়লার পাহাড়, নষ্ট হচ্ছে কয়লার মান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তিন মাসের কয়লা মজুত রেখে বাকি কয়লা বাইরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কয়লার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দিনাজপুরে আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে চীনা কোম্পানি সিএমসি-এক্সসিএমসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ১০০ স্থানীয় শ্রমিক চীনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনরাত ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ করছেন। খনির ভূগর্ভস্থ ১৪০৬ নম্বর ফেজ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার ৫০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।
উত্তোলিত কয়লা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা নিতে না পারায় খনির স্টক ইয়ার্ডে কয়লা উপচে পড়ছে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, স্টক ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা আড়াই লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে সেখানে জমেছে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন কয়লা। এছাড়া ৬ দশমিক ৬৮ বর্গকিলোমিটার খনি প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টন কয়লা মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়লা বাইরে বিক্রির পাশাপাশি উত্তোলন বাড়াতে ব্যাক ফিলিং পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাটির নিচে থাকা এই বিপুল কয়লা উত্তোলন করা গেলে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।’
দিনাজপুর-৫ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘দিনাজপুর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এখানে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাখনি ও পাথরখনি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
অন্যদিকে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমদানি না করে বড়পুকুরিয়ার কয়লা অন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে কয়লার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে দিনাজপুরে আরও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’