
বৈধ কর্মী পাঠাতে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
প্রতিবেদক, পাবনা
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৫

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মাকে কাছে পেয়ে খুশি ছেলে সাগর হোসেন। আনন্দিত বৃদ্ধ মা মুন্নি খাতুনও। ছবি: সময় সংবাদ
মায়ের সঙ্গে থাকতে চান না, এমনকি সঙ্গে রাখলে আত্মহত্যা করবেন, কয়েক দিন আগেও এমন কথা বলেছিলেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। সেই সাগরই এখন মাকে কাছে পেয়ে খুশি। ছেলের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত বৃদ্ধ মা মুন্নি খাতুনও।
রোববার (১১ অক্টোবার) পাবনার বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপে মা-ছেলের বিরোধের সমাধান হয়। আদালতে মায়ের কাছে ক্ষমা চান সাগর। এরপর থেকে মাকে নিজের সঙ্গেই রেখেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মাকে সঙ্গে নিয়ে সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তার মামা ও খালু। ইউএনও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মাকে সারা জীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। এ সময় মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
সাগর হোসেন বলেন, ‘রাগের মাথায় মাকে সঙ্গে না রাখার কথা বলেছিলেন। এরপর থেকে অনুশোচনায় তিন দিন ঘুমাতে পারেননি। এখন ভুল বুঝতে পেরেছেন। জীবনের বাকি সময় মাকে নিজের কাছেই রাখবেন।’
মা মুন্নি খাতুন বলেন, ছেলের প্রতি তার কোনো রাগ-অভিমান নেই। ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে যত্ন করছেন। ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, ‘মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়। মা-ছেলেকে একসঙ্গে দেখে তিনি আনন্দিত।’
দীর্ঘদিনের অভিমান আর বিরোধ পেছনে ফেলে এখন একই ছাদের নিচে মা-ছেলে। মুন্নি খাতুনের চাওয়া ছিল সামান্য, ছেলের কাছে একটু আশ্রয়। অবশেষে সেই চাওয়াই পূরণ হলো।
উল্লেখ্য, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি নন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। তাই ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন।
মায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের সামনে সাগর বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।’
অন্যদিকে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থেকে নুন-পান্তা খেয়েও বাকি জীবনটা কাটাতে চান তিনি।
অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সাগর ও এক মেয়ে রয়েছেন। মেয়েটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের প্রধান অবলম্বন এখন একমাত্র ছেলে সাগর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ছেলে মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজের সঙ্গে রাখতেও অনীহা প্রকাশ করেন।