
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় রাজনৈতিক মহল: শ্রমমন্ত্রী

এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করায় ময়মনসিংহের একটি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। এছাড়া ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফল ঘোষণা ও প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশ নেন।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৪৭। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে নজর দেয়া প্রয়োজন।
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ৭৩ হাজার ৪২০ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৬৮৪ জন।
গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ২২ শতাংশে। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার বড় ব্যবধানে কমে ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা আরও কমেছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় দুই বছরে পাসের হার কমেছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ। হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। এ বছর বোর্ডের অধীন ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৪ সালে ছিল চারটি। দুই বছরের ব্যবধানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেননি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন। তাদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন।
অন্যদিকে ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন। জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেরপুরে ৪৫ দশমিক ৬৫, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ এবং জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, ‘ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, সেগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে আইনগত দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে।’
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় পড়াশোনা না করেও ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যারা পাস করেছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেয়া উচিত। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের উন্নতি হবে বলে আশা করি।’