
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় পুলিশের মামলা, সহকারী ম্যানেজার গ্রেফতার
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৯

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই বিকৃত যে, দৃশ্যমান অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কক্সবাজারস্থ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টানা সাত ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম শেষ করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, 'উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একই কক্ষে পাওয়া গেছে, তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে ওয়াশরুমে, প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠ ও বোটসহ দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করায় আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা অতিথিরা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি। মরদেহগুলো স্থানীয় ইউপি প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রিসোর্টটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
উখিয়ার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী সেখানে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। এদের মধ্যে সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ায় ২ জন নিরাপদে আছেন, ৭ জন চিকিৎসাধীন এবং ৯ জন নিখোঁজ তালিকায় ছিলেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ জনের নাম বোর্ডার তালিকায় মেলেনি।
প্রশাসন জানায়, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের ৯ জন সদস্য অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে ৬ জন এখনো নিখোঁজ। পরিবারের চিকিৎসাধীন সদস্যদের উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রশাসন সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সুবিধার্থে চারজনকে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে আইনগত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।