
দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি
প্রতিবেদক, নেত্রকোনা
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৫

দেশীয় মাছের মধ্যে পুঁটি, টেংরা, পাবদা, বোয়াল, আইড়সহ নানা রকম ছোট মাছের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি এই অবতরণ কেন্দ্রে। ছবি: সময় সংবাদ
ভরা মৌসুমেও মাছ নেই নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সীমিত সরবরাহেই এবার চলেছে জেলার একমাত্র এই অবতরণ কেন্দ্র।
মৎস্যজীবীরা বলছেন চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় হাওড়ে মাছের উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে মাছ সংকট অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
যদিও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, হাওরে মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমাতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছেন।
ভোরের আলো ফুটতেই নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মাছের আড়তে ভিড় করেন হাওড় পাড়ের ব্যবসায়ী ও জেলেরা। বিভিন্ন হাওড় থেকে নৌকায় করে মাছ নিয়ে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে হাওড়ের দেশীয় মাছ বিক্রি হয় এই মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রেই। তবে মাছের আমদানি কমায় বেঁচাকেনায় মন্দা থাকার কথা জানান তারা।
নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের মধ্যনগর, ধর্মপাশাসহ বিভিন্ন হাওড়ের মাছ আসে মোহনগঞ্জের এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। দেশীয় মাছের মধ্যে পুঁটি, টেংরা, পাবদা, বোয়াল, আইড়সহ নানা রকম ছোট মাছের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মানভেদে এক কেজি মাছ ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
এই এখান থেকে কেনা মাছ বাছাই শেষে বড় বড় বাক্সে করে রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে মাছের সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয়সহ সব বাজারেই এর প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন চলতি বর্ষা মৌসুমে মাছ একেবারেই কম ছিল।
তারা বলেন, এবার এপ্রিল-জুনে অতিবৃষ্টির কারণে আগাম বন্যায় হাওরেড় ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তার প্রভাবও পড়েছে মাছের ওপর। ফলে অনেকেই ঋণ নিয়ে হাওড়ে নামলেও মাছ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে গেল কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বেসরকারি উদ্যোগে চালু হয়েছে জেলার একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বরফ কল। তবে অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হয়েছে বরফ উৎপাদন। ফলে সময় মত বরফ না পেয়ে অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীই বিপাকে।
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হাওড়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল বন্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার হাওড়ে অভিযান চালিয়ে ২৬৭০ টি চায়না দুয়ারী, ৫৩৩টি কারেন্ট জাল, চারটি বেড় জালসহ নয়টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। ১৫ দিন করে তিনজন জেলেকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৫৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।