
আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী
আতাউর কাওসার
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৬

`মাস্কাট বিমানবন্দরে ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রীরা। ছবি: সময় সংবাদ
হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে ভয়ানক বাণিজ্য শুরু করেছে কিছু এজেন্সি। এক প্রতিষ্ঠান অর্থ নিয়ে আরও তিন প্রতিষ্ঠানের কাছে যাত্রী বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। হাত বদলের মাধ্যমে একেক জনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করছে চক্রটি। সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
সম্প্রতি ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে দেখা যায়, ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রীরা। যাতায়াতে পোহাতে হয়েছে ভীষণ ঝক্কি। ওমরাহ পালনকারীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে একাধিক এজেন্সি।
তারা বলছেন, সরাসরি ফ্লাইট দেবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রানজিট দিয়েছে। এতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা জার্নি করতে হয়েছে। বিমানে কোনো খাবারও দেয়া হয়নি। এ ছাড়া, কথা ছিল মদিনার পাশাপাশি হোটেল দেবে। কিন্তু এমন জায়গা হোটেল দিয়েছে, যেখান থেকে আধা ঘণ্টা পথ হেঁটে আসতে হয়।
বক্তব্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করে সময় সংবাদ। কয়েকজন ওমারাহ পালনকারীর তথ্য পর্যালোচনায় মেলে অসঙ্গতি। জনপ্রতি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নেয়ার পর প্রথম এজেন্সি একে একে আরও তিনটি এজেন্সির কাছে যাত্রীদের ডকুমেন্ট বিক্রি করে দেয়। সবশেষ যে এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ পালনকারীরা সৌদি গিয়েছিলেন, সেই এজেন্সি পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। বাকি ৪৩ হাজার টাকা ভাগ করে নেয় তিনটি এজেন্সি।
সবশেষ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের ফুল প্যাকেজ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। অন্য কোনো এজেন্সি অতিরিক্ত নিয়ে থাকে, তাহলে সেটার জন্য তারা জবাব দিতে বাধ্য।
এবার প্রতারণার শিকার দুজনকে নিয়ে রাজধানীর পল্টনে চায়না টাওয়ারে মাস্ক হজ গ্রুপের অফিসে যায় সময় সংবাদ। অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার প্রমাণ তুলে ধরলে দুজনকে ১৫ হাজার টাকা করে ফেরত দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
হাবের সেক্রেটারি জেনারেল ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন,
মন্ত্রীর কাছে অনেক ওমরাহযাত্রী এসে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ফেরার টিকিট নেই। এগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, মাস্ক হজ গ্রুপ নামে একটা গ্রুপ এ যাত্রীদেরকে পাঠিয়েছিল ওয়ানওয়ে টিকিট দিয়ে। হাবের কাছে অভিযোগ আসার পর তাদেরকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। এগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে যারা প্রতারণার চিন্তা করবে, তারা অন্তত এই চেষ্টা থেকে দূরে থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অর্থ আত্মসাৎ তো রয়েছেই, লাইসেন্স ছাড়াও কার্যক্রম পরিচালনা করছে অনেক এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ।