
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে দেশজুড়ে রবি-এমটিবির বাংলা কিউআর চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৭

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া।
আগামী ডিসেম্বর কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অংশ হিসেবে শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে নৈরাজ্য করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেইসঙ্গে পোশাকখাত যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে বলে মত বিশ্লেষকদের। এ অবস্থায় সরকারের নজরদারির পাশাপাশি পতিত শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ তাদের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা চেষ্টা করে আসছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এবার বেতন বাড়ানোর দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে নৈরাজ্য করছেন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, পোশাকখাত যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সেসময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা নানাভাবে নৈরাজ্য চালানোর চেষ্টা করছে। সরকারকে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ তার।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশ আমাদের এ ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বড় করে উপস্থাপন করছে এবং অর্ডারগুলো তারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যেটা এরইমধ্যে ঘটেছেও। জ্বালাও পোড়াও পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, সরকারের কাছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে সরকারও কথা বলেছে। সেই প্রশ্নের ভিত্তিতে আমরা বলছি, সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পতিত শক্তি কখনও অটোরিকশা চালক, কখনো শিক্ষার্থী আবার কখনও শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে এবার ডিসেম্বর সামনে রেখে অস্থিতিশীলতার জন্য মাঠে তৎপর হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রকে সবার আগে রাখতে হবে। রাষ্ট্রের মর্যাদা সবার আগে দিতে হবে। কোনোভাবেই রাষ্ট্রকে যেন অস্থিতিলীতার মধ্যে ফেলতে না পারে, সেই বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ডিসম্বরকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকাচ্ছেন। যদিও হাসিনা নিজেই দেশে ফিরবেন না। কারণ তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রিবজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, শ্রমিক নেতারা আমাদের কেউ না, তারা বিশেষ করে ওই মহল থেকে কিন্তু নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোনো একটা অঘটন ঘটিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করে, দেশে আসতে পারে কি না (শেখ হাসিনা) ওই সুযোগ নিয়ে। আমার মনে হয় এ প্রক্রিয়ায় সম্ভব হবে না।
পোশাক শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মজুরি কমিশন গঠন করেছে সরকার ১ নভেম্বর। এখন এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।