
ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে দেশের মানুষ এক বিন্দু ছাড় দেবে না: আখতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২০

সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বর মুক্ত হন তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জিয়াউর রহমান। ফাইল ছবি
১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর। অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানে অস্থির অধ্যায়ের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফেরানোর কথা বলে ৩ নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে নিজেকেই বাহিনীর প্রধান দাবি করেন তিনি। মাত্র চারদিনের মাথায় পাল্টে যায় দৃশ্যপট। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে আবারো পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন জিয়াউর রহমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পঁচাত্তরের নানা ঘটনাপ্রবাহে যে অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা-ভীতি তৈরি হয়েছিল, সে দ্বান্দ্বিক বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতেই এক হয়েছিলেন সিপাহি আর জনতা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা আর জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাও মানুষকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে এক কাতারে আনতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘সেসময় সিপাহিদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছিল কী হবে? আবার সাধারণ মানুষদের মধ্যেও ভীতি ছিল। তখন তারা ভেবেছিল আমরা এক সঙ্গে কাজ করতে পারি, একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি। ৩ নভেম্বর থেকে পুরো দেশজুড়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। সবাই ভাবছিল যে একটা বড় বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে। ভয় আর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত হলো ৭ নভেম্বরের মানুষ। গণতন্ত্র হোক বা অংশগ্রহণ কিংবা এ ধরনের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তন চেয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। এ কারণেই সিপাহি জনতা এক হতে পেরেছে।’
বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, ‘৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ যখন ক্ষমতা নিলেন, সেদিন রেডিও বাংলাদেশ বন্ধ ছিল। তিনি কোনো কথা বলেননি। সেখানে রক্ষীবাহিনীর সাবেক প্রধান বিগ্রেডিয়ার নুরুজ্জামানকেও অত্যন্ত সক্রিয় দেখতে পায় সৈনিকরা। এ পরিস্থিতি সবাইকে ভাবাচ্ছিল, কোনদিকে নিয়ে যাবে তাদের।’
বিশ্লেষকদের মতে, ৭ নভেম্বরের পর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানো আর রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সেই কঠিন পরীক্ষায় জিয়াউর রহমান সফল হন। তাতে সুরক্ষিত থাকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
অধ্যাপক নাজনীন বলেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বটা নিলেন, তখন সবার মাঝে একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো যে, এখন হয়তো একটা পরিবর্তিত দিকে আমরা যাবো। সেটাই মনে হয় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য। এরপর থেকে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশে।’
আবু রূশদ বলেন, ‘কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা জাসদের সৈনিকরা একদম উচ্ছৃঙ্খল অবস্থায় ছিল। এর বাইরে আরেকটা পক্ষ ছিল, শেখ মুজিব হত্যাকারী কর্নেল ডালিম ও রশিদ ফারুকের সেনা পরিষদ। এই সেনা পরিষদও বাড়াবাড়ি শুরু করে। জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার সঙ্গে থাকা অফিসাররদের সথেষ্ট পরিশ্রম সৈনিকদের দুই পক্ষকে শান্ত করে। পুরো সেনাবাহিনীকে একটা চেইন অব কমান্ডে আনা অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। এগুলো জেনারেল জিয়া যদি শক্ত হাতে প্রতিহত না করতেন, তাহলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থাকতো না, বাংলাদেশও থাকতো না। আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে শেষ হয়ে যেতাম।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনা করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায় নতুন সম্ভাবনা আর অগ্রগতির দিকে।