
কোস্টগার্ডের উদ্যোগে প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন ৭ দেশের ১২ জন

ভোলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। কিন্তু সেখানকার ৫টি হাসপাতালে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ। ছবি: সময় সংবাদ
শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবে দ্বীপজেলা ভোলার প্রায় ৬ লাখ শিশুর সুচিকিৎসা এখনে চরম ঝুঁকির মধ্যে। জেলার সাতটি সরকারি হাসাপাতালের পাঁচটিতেই নেই শিশু চিকিৎসক। বর্তমানে পুরো জেলায় আছেন মাত্র ২ জন ডাক্তার। ফলে প্রয়োনীয় চিকিৎসার অভাবে নামমাত্র সেবা নিয়েই হাসপাতাল ছাড়তে হচ্ছে সেবাপ্রার্থী শিশুদের, যার সবচেয়ে বড় শিকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
বছরের পর বছর এমন সংকট চলতে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা ৬০ । কিন্তু গত এক বছরে বেশি সময় ধরে এ ওয়ার্ডে প্রতিদিন গতে ভর্তি থাকে তিন শতাধিক রোগী। ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিশুদের মতো সংবেদনশীল রোগীদের রাখা হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা, চলাচলের স্থান ও সিঁড়ি কোটায়।
বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য মাত্র একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। সরেজমিনে দেখা যায়, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. সালাহউদ্দীন হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোগীদের দেখতে ছোটাছুটি করছেন। শিশু ওয়ার্ড থেকে হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডে আবার সেখান থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। ইনডোরে সকালে শুরু করা রোগী দেখা দুপুর গড়িয়ে গেলেও শেষ হচ্ছে না। ওইদিকে আইটডোরেও অসুস্থ শিশু নিয়ে অপেক্ষা করছেন অনেক অভিভাবক। অক্লান্ত পরিশ্রম করেও রোগীর অভিভাকদের খুশি করতে পারছে না চিকিৎসক। আবার আপ্রাণ চেষ্টার পরও রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়ে অখুশি ডাক্তার নিজেও।
ডা. মো. সালাহউদ্দিন জানান, একজনের পক্ষে এতো রোগীতে সঠিক চিকিৎসা দেয়া অসম্ভব। শিশুর অভিভাবকদের সব কথা শোনা সম্ভব হয় না। তারপরও সামর্থ অনুযায়ী আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এমন ভাষ্য তার।
তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগেুলোতে শিশুরোগ চিকিৎসক না থাকায় জেলা সদরে সবসময় রোগীর চাপ বেশি থাকে। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে ডাক্তারের সংখ্যা বাড়ানোর ছাড়া বিকল্প কিছু না।
গত সোমবার দুপুরে ঠান্ডায় আক্রান্ত ৯ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভোলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড আসেন আনসার উদ্দিন দম্পতি। আনসার উদ্দিন জানান, তার বাড়ির পাশেই তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেখানে শিশুরোগের চিকিৎসক না থাকায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভোলা হাসপাতালে এসেছেন। কর্তৃপক্ষ ভর্তি করালো নেই কোনো বেড। ডাক্তারেরও দেখা পাচ্ছেন না। তাই উৎকণ্ঠা কমছে না তার।
২০২২ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী, ভোলায় ০-১৪ বছর বয়সী মোট শিশুর সংখ্যা ৬ লাখ ৪১ হাজার। এর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু ৪ লাখ ২৭ হাজার। তবে স্বস্থ্যবিভাগের তথ্যমতে বর্তমানে ৫ বছরের নিচে শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার। এসব শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা উপজেলার ৭টি হাসপাতালে মোট ৮ জন শিশু বিশেষজ্ঞের পদ রয়েছে। যার মধ্যে সদরে জেনারেল হাসপাতালে একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট আছেন। বাকি ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পেয়ে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে জেলা সদরের ছুটছেন অভিভাবকরা।
আর সদর হাসপাতালের একমাত্র ডাক্তারের পক্ষে বিপুলসংখ্যক রোগীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। শিশু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিভাবকদের অভিযোগের কমতি নাই। মরজিনা বেগম, রিয়াজ উদ্দিন, রহমত আলীসহ অনেকের অভিযোগ, ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। শিশুর মা মনিরা বিবি ভাষ্য, অুসস্থ শিশুকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সেই হাসপাতালেও ডাক্তার নাই। তাহলে আমরা কই যামু? তার মতে, বেসরকারিভাবে চিকিৎসা করানোর সামর্থ তার নেই।
ডাক্তার সংকটের কারণে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ মুখে পড়ার কথা জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান।
তিনি জানান, একজন ডাক্তার দিয়ে তারা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শিশুরোগের চিকিৎসক প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভোলা দ্বীপ এলাকা হওয়ায় জেলার সব রোগী সদর হাসপাতালে আসে।
সিভিল সাজন ডা. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, জেলার ৭টি হাসপাতালে মোট ৮জন শিশুরোগ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে সদর হাসপাতাল ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন। বাকি ৬টি পদই দীর্ঘদিন শূন্য। এতে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কষ্টকর। শূন্যপদে ডাক্তার দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
চিকিৎসক সংকট রয়েছে অন্যান্য বিভাগেও। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের ৮৭টি পদের মধ্যে বতমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন ডাক্তার।