
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: এনবিআর-মন্ত্রণালয় কর্মীসহ গ্রেফতার ৭
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৮

ইজিবাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যার ঘটনায় চার বছর পর মূলহোতা মুরাদ শেখকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুরে চেতনানাশক ওষুধের মাধ্যমে অজ্ঞান করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যার ঘটনায় চার বছর পর মূলহোতা মুরাদ শেখকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুরাদ চতুর প্রকৃতির হওয়ায় গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এতে তাদের চার বছর সময় লেগেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফরিদপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের সঙ্গে পাঁচজন জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকা থেকে মূলহোতা মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে।
মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন ইব্রাহীমদি গ্রামের বিশ্বনাথ সরকার (৫৫)। ওইদিন রাত ৮টায় পরিবারের কাছে খবর যায়, অজ্ঞান অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে পড়ে আছেন বিশ্বনাথ। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালটিতে ভর্তি করলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন নিহতের ছেলে রবি কুমার। পরবর্তীকালে ওই বছরের ১৯ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। এরপর তদন্তকালে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ক্রেতা কামাল মিয়াকে (৩৬) জেলা সদরের বাখুন্ডা বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয় এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে সুমন আহমেদকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীকালে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে মুরাদসহ পাঁচজনের নাম উঠে আসে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন পাঁচজনে মিলে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ওইদিন সন্ধ্যায় শহরের গোয়ালচামটস্থ পুরাতন বাস টার্মিনাল থেকে ২০০ টাকায় বিশ্বনাথের ইজিবাইকটি ভাড়া করে এবং নগরকান্দার তালমা মোড়ে যাবে বলে জানান তারা। একপর্যায়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ধরে এগিয়ে গেলে নির্জন স্থানে পৌঁছানো মাত্র আসামিরা রুমালে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে বিশ্বনাথের নাক-মুখে চেপে ধরেন। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে মহাসড়কের পাশে বিশ্বনাথকে ফেলে রেখে ইজিবাইক নিয়ে চলে যান তারা। ঘটনার পরেই অচেতন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের পর ১ লাখ ২৫ হাজার মূল্য নির্ধারণ করে চার সহযোগীর প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে বিদায় করেন মুরাদ এবং নিজের কাছে ইজিবাইক রেখে দেন। এরপর তিনি কামালের কাছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, কামাল ও সুমনকে গ্রেফতারের পর জেনে যান মুরাদ। এরপর থেকে চতুরতার আশ্রয় নিতে শুরু করেন। নিজ বাড়িতে কিংবা শ্বশুরবাড়িতেও যেতেন না। এমনকি মোবাইল চালানোও বন্ধ করে দেন। এরপর গোপনীয়ভাবে একটি বাটন মোবাইল ব্যবহার করতে শুরু করেন। সেই মোবাইলে শুধু কল এলে রিসিভ করতেন এবং কখনও কাউকে কল দিতেন না। এতে তার অবস্থান শনাক্ত করা কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। তার এমন চতুরতায় আমরা গুপ্তচর নিয়োগ দিতে বাধ্য হই। এরপর লোকমুখের গল্প শুনে শুনে চার বছর পর তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমাদের জন্য একটি বড় অজর্ন।
তিনি আরও জানান, মুরাদকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে গ্রেফতার হওয়া দুজনই বর্তমানে জামিনে আছেন। এছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।