
পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
মেহেদী হাসান, গাজীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২

অব্যবস্থাপনায় আকর্ষণ হারাচ্ছে সাফারি পার্ক। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
২০২৩ সালে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিরল প্রজাতির তিনটি আফ্রিকান লেমুরের ঠাঁই হয়েছিল গাজীপুর সাফারি পার্কে। কিন্তু কিছুদিন পরই রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যায় প্রাণীগুলো। পরে একটি লেমুর উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুটির খোঁজ মেলে ভারতের ধনকুবের আম্বানি পরিবারের ব্যক্তিগত প্রাণিশালায়।
এর আগে পার্কটি থেকে একে একে চুরি হয়েছে দুটি ম্যাকাও পাখি, একটি নীলগাইসহ বেশ কয়েকটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণী। বিশেষ করে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পার্কটি যেন চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
শুধু প্রাণী চুরিই নয়, গত কয়েক বছরে একের পর এক প্রাণীর রহস্যজনক মৃত্যুও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০২২ সালে মারা যায় ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ ও একটি সিংহী। পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় আনা ১২টি জিরাফ ও তিনটি ক্যাঙ্গারুর বংশধরসহ সব প্রাণীই এখন মৃত। ২০২৫ সাল থেকে পার্কটি জিরাফ ও ক্যাঙ্গারুশূন্য।
অন্যদিকে, তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা থাকলেও গত নয় বছর ধরে বন্দী রয়েছে একটি লেপার্ড। পুষ্টিহীনতা ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে বছরের পর বছর ধরে বাঘ-সিংহের প্রজননও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রাণী দেখতে এসে তারা হতাশ হচ্ছেন। তাদের একজন বলেন, ‘প্রাণী ধরতে গেলে একদম নাই বললেই চলে। ভেতরে প্রাণীর সংখ্যাও কম, পরিবেশটাও সেরকম ভালো লাগেনি। আগে যা দেখে গেছি, এখন এসে তার কিছুই পেলাম না। এখানে আরও অনেক বেশি পশুপাখি থাকা উচিত। এত প্রাণী থাকার পরও সেগুলো চুরি হবে কেন?’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, প্রাণীদের খাবারের জন্য একটি রেশনিং কমিটি রয়েছে। প্রাণীদের যতটুকু খাবার প্রয়োজন, কমিটি সেই পরিমাণ খাবারই সরবরাহ করে থাকে।
পার্কে নানা অনিয়মের খবর পেয়ে সম্প্রতি এটি পরিদর্শনে আসেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা শুনে তিনি জানান, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সরকার। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘এখান থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। যারা দায়ী থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বিপরীতে আয় হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রাণী চুরি, লুটপাট ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
পার্কের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা। তাদের মতে, বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কার, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।