
জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেদক, ফেনী
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৯

ফেনীর দাগনভূঞা থানা ভবন। ছবি: সময় সংবাদ
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের হোসেন মিয়ার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সেতারা বেগম ওই এলাকার হোসেন মিয়ার স্ত্রী এবং অভিযুক্ত রানু আক্তার তাদের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন রানু আক্তার। সম্প্রতি স্বামীর বাড়িতে স্বামীকে মারধর করায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখানে এনে তাকে মানসিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছিল। রোববার রাতে হঠাৎ পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে মা সেতারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন রানু।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন এবং ভেতর থেকে দরজা আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বটিসহ রানুকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সরোয়ার পারভেজ প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানান, রানু তার স্বামীর সংসারে ভালোই ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকে বটিসহ আটক করা হয়েছে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।