
গণতান্ত্রিক-ন্যায়ভিত্তিক-মানবিক-নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:২৮

সদ্য নির্মিত সড়কের বুকে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি। ছবি: সময় সংবাদ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি ব্যয়ে নির্মাণাধীন কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কে রয়েছে শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি রয়েছে সড়কের ভেতরে। এখন খুঁটি সরাতে সদ্য নির্মিত সড়কের অংশ কাটতে হবে। পরে আবার করতে হবে মেরামত। অথচ নির্মাণের আগেই খুঁটি সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা নতুন; কংক্রিট নতুন; শুধু বাধাগুলো পুরনো। সদ্য নির্মিত সড়কের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি। কোথাও মাঝ বরাবর। কোথাও চলাচলের অংশে। আবার কোথাও রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে। এখনও উদ্বোধন হয়নি। তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে অটোরিকশাসহ স্থানীয় ছোট যানবাহন চলছে। আর নতুন সড়কে তাদের পথ আগলে আছে এসব খুঁটি।
সড়কের বুকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এসব খুঁটির অংশে দিনের আলোতেই হিসাব কষে পাশ কাটাতে হচ্ছে ছোট পরিবহনকে। স্থানীয়দের শঙ্কা, সড়ক পুরোপুরি চালু হলে বড় যানবাহন নামলে ঝুঁকি বাড়বে আরও। রাতের অন্ধকার কিংবা ঘন কুয়াশায় এসব খুঁটি হয়ে উঠতে পারে দুর্ঘটনার ফাঁদ।
জানা যায়, রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ কাঞ্চন- ডাঙ্গা সড়ক। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেয়া প্রকল্পে ২৪ ফুট প্রশস্ত করে সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের দায়িত্ব পায় সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেড। কাজের অগ্রগতি এখন প্রায় ৯৫ শতাংশ। কিন্তু এখানেই প্রকল্পের অদ্ভূত সমীকরণ। সড়ক হয়েছে, কংক্রিটের ঢালাই হয়েছে, কাজও প্রায় শেষ। কিন্তু এখন আবার সেই নতুন সড়কের অংশই কাটতে হবে। কারণ, সড়কের ভেতরে থাকা ৪৬টিসহ শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে হবে নতুন জায়গায়। প্রয়োজন অনুযায়ী কাটতে হবে সদ্য নির্মিত অংশ। খুঁটি সরানোর পর আবার করতে হবে মেরামত। অর্থাৎ আগে খুঁটি সরিয়ে পরে রাস্তা নির্মাণের বদলে আগে রাস্তা নির্মাণ, পরে খুঁটি সরানো, তারপর আবার রাস্তা মেরামত।
অথচ এই পরিস্থিতি যে হঠাৎ তৈরি হয়েছে তা নয়। সড়ক নির্মাণের শুরুতেই খুঁটি সরাতে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ জমা দিতে বলে। কিন্তু সেই অর্থ আর সময় মতো পরিশোধ করেনি সওজ। এ কারণে সড়ক থেকে খুঁটি সরেনি। কিন্তু থামেনি সড়কের কাজও। নির্মাণ এগিয়েছে, ঢালাই হয়েছে, কাজ পৌঁছেছে ৯৫ শতাংশে। আর খুঁটি থেকে গেছে সেখানেই।
পল্লী বিদ্যুৎ বলছে, ২০২৫ সালেই সওজকে খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয়ের হিসাব দেয়া হয়েছিল। টাকা জমা না পড়ায় তখন খুঁটি সরানো হয়নি। এখনও সেই অর্থ না পেলেও সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, ২০২৫ সালে আমরা সওজকে খুঁটি সরানোর একটি হিসাব দিয়েছিলাম। তারা সেই অনুযায়ী টাকা জমা না দিয়েই সড়কের কাজ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমরা খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে চেষ্টা থাকবে যেন উভয় পক্ষের সমন্বয় ঠিক থাকে।
কিন্তু হিসাব দেয়ার পরও নির্মাণের আগেই কেন সরানো গেল না খুঁটি এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।
আর নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলছেন, বরাদ্দ না থাকায় তৈরি হয়েছ এই জটিলতা। খুঁটি সরানোর টাকা তখন দেয়া যায়নি। এখন প্রধান কার্যালয়ে চাওয়া বরাদ্দের টাকা চলে এসেছে। দ্রুত সেই অর্থ দেয়া হবে পল্লী বিদ্যুৎকে। সদ্য নির্মিত সড়ক কাটার পর আবার মেরামতের খরচ কে দেবে?
এমন প্রশ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন, সেই ব্যয় হবে সামান্য। ব্যবস্থাও করবে তার দফতর।
আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরানোর আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। কিন্তু এর আগেই কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়ক সামনে এনেছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পুরনো এক প্রশ্ন, যে খুঁটি সরানোর প্রয়োজন জানা ছিল নির্মাণের আগেই, সেই খুঁটি রেখেই কেন শেষ করা হলো প্রায় পুরো সড়ক? আর যে সড়ক এখনও উদ্বোধনই হয়নি, কেন সেই সড়কেই করতে হবে পুনঃকাজ? দুই সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ঘাটতিতে তৈরি এই বাড়তি কাজের ব্যয় যতই ‘সামান্য’ হোক শেষ পর্যন্ত সেই অর্থও তো জনগণের।