
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে দেশজুড়ে রবি-এমটিবির বাংলা কিউআর চালু
মওদুদ রানা
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭

ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত পৃথক লেনে চালকরা ছুটতে পারেন গতি ও স্বস্তিতে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে পৌঁছাতেই বাস্তবতা ভিন্ন। নাটোর হয়ে খুলনা অথবা সোনামসজিদ বন্দর মহাসড়কে লেন পৃথক নয়। সরু সড়কে অসংখ্য বাঁক পেরিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালানোয় প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরছে প্রাণ। গবেষণা বলছে, নাটোর-খুলনা-রাজশাহী মহাসড়কের ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও বাঁকে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কে মৃত্যুর হারে ঢাকার পরই রাজশাহী বিভাগ।
২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রামে ৩৮ জন মারা যান। ঠিক এক যুগ পর একই দিনে বড়াইগ্রামেই বালুর ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ১৪ জন নিহত হন।
২০২১ সালে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের কাটাখালীতে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হন। একই সড়কে পুঠিয়ার ঝলমলিয়া বাজারে বালুবাহী ট্রাক উল্টে চারজন নিহত হন।
চলতি বছর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক খুলনা-রাজশাহীর ২৬৯ কিলোমিটার মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণতা, কারণ বিশ্লেষণ এবং ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বড়াইগ্রাম, দাসুড়িয়া, বনপাড়া, ঝলমলিয়া, পুঠিয়া, কাটাখালি। রাজশাহী জেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটে এমন হটস্পট ৪৩টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ থেকে নাটোরের বনপাড়া ব্যস্ততম সড়ক। উত্তরাঞ্চলের হাজারো যানবাহন ছুটে চললেও সড়ক হয়নি প্রশস্ত। ৩১ কিলোমিটারে ২৫টি বাঁক। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের বনপাড়া থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক, কাশিয়াডাঙ্গা-আমনুরা, খড়খড়ি-বাগমারা, পুঠিয়া-বাঘা সড়কে অন্তত ৪৬টি বাঁক। এসব বাঁকে প্রায়ই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানান, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি। এছাড়া সরু সড়কে বিপজ্জনক বাঁক, ড্রাইভিং জ্ঞানের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যান, ধীরগতির তিন চাকার যানের অবাধ চলাচল এবং সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক বিভাগ, রাজশাহী) আহসান হাবীব জানান, প্রাণহানি কমাতে সড়ক বিভাগ রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় সাইন-সিগন্যাল, রোড মার্কিং, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে।
গবেষণা বলছে, ২০২৪ সালে রাজশাহী বিভাগে প্রতি ১০০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এ বিভাগে শুধুমাত্র জাতীয় মহাসড়কে ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪২০টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৭০ জন।