
একই রাতে মেসির দুই রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে ও হলান্ড
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৪

রোমার মাঠে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ছবি: এএফপি
রোমে ফেরার ম্যাচে আবেগের নানা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গেলেন জোসে মরিনিয়ো। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তার বর্তমান দল রিয়াল মাদ্রিদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে। তবে পর্তুগিজ এই কোচ স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বড় একটি সময়জুড়ে কৌশলগতভাবে রিয়াল তার সাবেক দলের চাইতে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নাটকীয় এই জয় এনে দেয়।
জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রোমার বিপক্ষে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের হার প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র সাত মিনিটের ঝড়ো আক্রমণে পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় বেঞ্চ থেকে এন্দরিক ও আরদা গুলেরকে মাঠে নামান মরিনিয়ো। পরে কার্লোস এস্পি ও বের্নার্দো সিলভাকেও নামানো হয়। এই পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গেই রিয়াল মাদ্রিদকে নতুন প্রাণ এনে দেয়।
এন্দরিক ও এস্পি গোল করে রোমার বিপক্ষে সমতা ফেরান। এরপর রোমারই সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার ৯০ মিনিটে গুলেরের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে হেডে গোল করে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন পূর্ণ করেন। নিশ্চিত করেন লিগ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরুতে দলের বাজে পারফরম্যান্সের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নেন মরিনিয়ো। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। তবে তার বিশ্বাস ছিল, রোমার খেলার তীব্রতা একটা সময় কমে আসবেই।
সাংবাদিকদের মরিনিয়ো বলেন, ‘প্রথমার্ধের দায় কোচের, আর দ্বিতীয়ার্ধের দায় খেলোয়াড়দের। ফুটবল ৯০ মিনিটের একটি কৌশলগত খেলা। প্রতিপক্ষও গুরুত্বপূর্ণ, আর আজকের প্রতিপক্ষ ছিল অসাধারণ শক্তিশালী। তারা সত্যিই দুর্দান্ত একটি দল।’
‘তবে তারা যেভাবে খেলেছে, পুরো ৯০ মিনিট ধরে সেই তীব্রতা বজায় রাখা অসম্ভব। আমি যে পরিবর্তনগুলো প্রয়োজনীয় মনে করেছি, সেগুলোই করেছি। কিন্তু প্রথমার্ধে তারা আমাদের সত্যিই কঠিন শাস্তি দিয়েছে,’–তিনি যোগ করেন।
ম্যাচের নাটকীয় ফলাফলের বাইরেও সন্ধ্যাটি ছিল মরিনিয়ো ও রোমার সমর্থকদের আবেগঘন পুনর্মিলনের উপলক্ষ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ক্লাব ছেড়ে যাওয়া সাবেক কোচকে স্টাডিও অলিম্পিকোর দর্শকেরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
রোমার উগ্র সমর্থকেরা ২০২২ সালের উয়েফা কনফারেন্স লিগ জয়ের স্মরণে বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, 'যে-ই রোমাকে গৌরব এনে দেয়, রোমা তাকে চিরকাল সম্মান জানাবে।' পরে মরিনিয়ো স্বীকার করেন, সমর্থকদের এই শ্রদ্ধা তাকে ‘বাক্রুদ্ধ’ করে দিয়েছিল।
এদিকে ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরেও কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। রোমার দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া একটি ভুলের পর ৫৯ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হলে ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গার সাংবাদিকদের কাছে নিজের অসন্তোষের কথা জানান।
মরিনিয়ো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ভিনির জন্য সময়টা কঠিন ছিল। তার এমন একটি বল হারানো উচিত হয়নি। তবে এমনটা হতেই পারে। আমিও ভুল করি। তাই তার খুশি না হওয়াটা স্বাভাবিক। হতাশা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে ম্যাচের পর জয় নিয়ে সে খুবই খুশি ছিল।’
ইউরোপীয় ফুটবলে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এই জয় আবারও প্রমাণ করেছে, মূল একাদশ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে বেঞ্চের খেলোয়াড়েরাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এখন মরিনিয়োর মনোযোগ তারকাসমৃদ্ধ দলের খেলোয়াড়দের সামলানোর দিকে। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হতাশাকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারা অত্যন্ত জরুরি হবে। কারণ, সামনে ঘরোয়া ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় একের পর এক কঠিন ম্যাচের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লস ব্লাঙ্কোসদের জন্য।