
সিটির শিরোপা কেড়ে নেয়ার পক্ষে নন এনরিকে
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২

১০ জনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। ছবি: রয়টার্স
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশা কাটছেই না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে গেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে পাবলো বারিওস ও আদেমোলা লুকম্যানের গোলে ১০ জনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ঘরের মাঠ মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪৭ সেকেন্ডেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বারিওস। বিরতির আগে জনি কারদোসোর আরেকটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করেন রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় ইউনাইটেড। কিন্তু লেনি ইয়োরোর লাল কার্ডে তাদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ধুঁকতে থাকা দলটিকে প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন লুকম্যান।
ম্যাচের শুরুতেই স্বপ্নের মতো সূচনা করে অ্যাতলেটিকো। ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে সহজেই ভেঙে আলেক্স বায়েনা পাস বাড়ান বারিওসকে। তার নিচু শট আয়ডেন হেভেনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। গোলরক্ষক সেনি লামেন্স বল ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের হয়ে সবচেয়ে ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রায়ান এমবেউমো। তার নিচু শট প্রতিহত হয়। পরে কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া তার আরেকটি শটও ভালোভাবে সামলে নেন অ্যাতলেটিকোর গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক।
এরপর আবারও আক্রমণের গতি বাড়ায় স্বাগতিকেরা। ২০ গজ দূর থেকে আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর বাঁকানো ফ্রি-কিকটি গোলপোস্টের কোণে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় অ্যাতলেটিকো। বারিওসের বাড়ানো বলে শট নিয়ে জালে বল পাঠিয়েছিলেন কারদোসো। কিন্তু ভিএআরে পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়। আক্রমণের শুরুতে হেভেনের সঙ্গে বলের দখল নিতে গিয়ে মার্কোস ইয়োরেন্তের হাতে বল লাগায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে আবারও গোলপোস্ট অ্যাতলেটিকোর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হুলিয়ান আলভারেজের ভলি লামেন্সকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আরেকটি শট ক্রসবারের ওপরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। প্রথমে জোনাথন ডেভিডের বিরুদ্ধে হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এরপর তিনি লুকম্যানকে বল বাড়িয়ে দেন, যার ওয়ান অন ওয়ান শট ঠেকিয়ে দেন লামেন্স। তবে এর ঠিক আগে ডেভিডকে গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় ভিএআরের পর্যালোচনার পর ইয়োরোকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেই সুবিধা কাজে লাগায় অ্যাতলেটিকো। গ্রিমালদো দ্রুত সামনে এগিয়ে ডেভিডকে বল বাড়িয়ে দেন। তার শট ঠেকিয়ে দেন লামেন্স, কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে দ্রুত জালে পাঠান লুকম্যান। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
শেষদিকে দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেড। জশুয়া জির্কজির পাস পেয়ে শট নেন মাতেউস কুনিয়া। তবে অ্যাতলেটিকোর সাবেক খেলোয়াড়ের সেই প্রচেষ্টাও পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন ওবলাক।
সপ্তাহের শুরুতে ১০ জনের টটেনহ্যামের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্র আর এবারের হারের পর ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। অ্যাতলেটিকোর বিপক্ষে জয় তার দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রথম মিনিটেই গোল হজম করল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে, এই প্রতিযোগিতায় অ্যাতলেটিকোর ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর চেয়ে দ্রুত গোলটি করেছিলেন কনর গ্যালাঘার, ২০২৫ সালের মার্চে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ২৭ সেকেন্ডে।
ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই গোল করেন লুকম্যান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বদলি হিসেবে তার ছয়টি উপস্থিতিতে চারটি গোলে অবদান রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে অ্যাতলেটিকোর রেকর্ডও বেশ ভালো। দুই দলের পাঁচবারের মুখোমুখিতে কখনোই হারেনি স্প্যানিশ ক্লাবটি। এর মধ্যে তিনটি জয় ও দুটি ড্র রয়েছে।
ইয়োরো লাল কার্ড দেখার আগ পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লাল কার্ড দেখা ইউনাইটেডের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন ইয়োরো।