
কঠিন বিপদে যে ৩ দোয়া পড়তে বলেছেন নবীজি
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮

নেক কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসলামে সহযোগিতারও নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। সৎকর্ম ও কল্যাণের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে, আর পাপ, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ অর্থ: তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২)
নেক কাজে সহযোগিতা শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কাউকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, দ্বীনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করা, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঋণগ্রস্তকে সাহায্য করা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্ট দূর করাও নেক কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি সুন্দর কথা বলা, ভালো পরামর্শ দেওয়া এবং কাউকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়াও সওয়াবের কাজ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ অর্থ: বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতায় থাকেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা আল্লাহর সাহায্য লাভেরও একটি মাধ্যম। তাই মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়ানো উচিত। পরিবারে একে অপরকে নেক কাজে উৎসাহিত করা, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলা এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব।
তবে সহযোগিতার নামে অন্যায়কে সমর্থন করা যাবে না। প্রতারণা, জুলুম, মিথ্যা সাক্ষ্য কিংবা হারাম কাজে কাউকে সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা পরিপন্থী। বরং কেউ অন্যায় করলে তাকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখাও প্রকৃত সহযোগিতার অংশ।
নেক কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমাদের উচিত, নিজেরা ভালো কাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করা। এভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার চর্চা পরিবারে শান্তি, সমাজে সম্প্রীতি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করতে পারে।