
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম নিয়ে বাড়ছে মানুষের আগ্রহ
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৩

রাজধানীর শনির আখড়ায় মাদরাসাতুল হিকমাহ লিদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়্যার প্রাঙ্গণ।
কওমি মাদরাসার শিক্ষাদান পদ্ধতি ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে ঢাকায় আলেমদের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাঠদানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আচরণ, আবাসিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন আলোচকেরা। তাঁরা বলেন, ইসলামী আদর্শ ও মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাপদ্ধতিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আরও কার্যকর ও কল্যাণকর পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর শনির আখড়ায় মাদরাসাতুল হিকমাহ লিদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়্যার প্রাঙ্গণে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন হাইয়াতু আবনাইল জামিয়ার কেন্দ্রীয় জেলা কমিটি এর আয়োজন করে। এতে প্রায় ৮০ জন অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মহাপরিচালক মুফতি মাহমুদুল হাসান।
আয়োজকেরা জানান, জামিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য জোরদার করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক উন্নত করা এবং সমসাময়িক শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমদের চিন্তা ও কার্যকর উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জেলাভিত্তিক এ আয়োজন শুরু হয়েছে। আলোচনায় কওমি মাদরাসার উন্নয়ন বলতে আধুনিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার নয়; বরং ইসলামী আদর্শ ও নীতিমালার আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে কওমি মাদরাসার শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। গবেষক ও মুহাদ্দিস শায়খ তাহমিদুল মাওলা বলেন, মাদরাসার শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি ইসলামের একজন আহ্বায়কও। তাই শিক্ষার্থীকে দূরে ঠেলে দেওয়া কিংবা কঠোর শাস্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে তার সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি মুফতি মাহমুদুল হাসান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষাপদ্ধতিই শিক্ষকদের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত। পাঠদানের আগে বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর প্রস্তুতির পাশাপাশি তা শিক্ষার্থীদের সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপনের প্রস্তুতিও জরুরি।
লেখক ও আলেম মাওলানা সাবের চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে মাওলানা মোসাদ্দিক হোসাইন প্রতিটি ক্লাসের আগে পাঠের উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং ক্লাস শেষে নিজের পাঠদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
মাওলানা মারুফ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীর অমনোযোগের পেছনে পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা দৃষ্টি ও শ্রবণসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে। তাই প্রকৃত কারণ না জেনে কাউকে অলস বা অমনোযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
মাওলানা আলাউদ্দিন রফিকী বলেন, শিক্ষার্থীর আবেগ সব সময় সরাসরি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও যথাযথ পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তার আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দ্বিতীয় অধিবেশনে মাদরাসার আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের প্রতি মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপে শিক্ষকদের কর্মবিমুখতা বা মানসিক ক্লান্তি তৈরি হওয়া এবং তাঁদের পারিবারিক জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। তাই আবাসিক পরিবেশে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষাদান ও আবাসিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সমস্যা নিয়ে সচেতন আলেমদের চিন্তা, আলোচনা ও উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।
আলোচকেরা মনে করেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সামর্থ্য ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান সম্ভব। শিক্ষাদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং আবাসিক পরিবেশের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।
আয়োজকদের মতে, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।