
‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি মুসলিম হয়ে ফিরলাম’
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে জামাতে নামাজ আদায় করছেন শত শত মুসলিম।
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। কারাগারের নিঃসঙ্গতা, মানসিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে অনেক বন্দী ইসলামের শিক্ষা, ইবাদত ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নতুন করে জীবন গড়ার প্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন। তবে দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতিবছর ঠিক কতজন ইসলাম গ্রহণ করেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান নেই।
২০১২ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ৪৭৪ জন পেশাদার কারা-যাজকের মধ্যে ৭৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কারাগারে বন্দীদের ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, এমন যাজকদের মধ্যে ৫১ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের কারাগারে মুসলিম বন্দীদের সংখ্যা বাড়ছে।
২০১৯ সালে নাগরিক অধিকার সংস্থা মুসলিম অ্যাডভোকেটসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনসংখ্যার সঙ্গে কারাগারে মুসলিমদের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাধারণ জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মুসলিম হলেও ৩৪টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির তথ্য বিশ্লেষণে স্টেট কারাগারে মুসলিম বন্দীদের হার প্রায় ৯ শতাংশ পাওয়া যায়। ফেডারেল কারাগারে এই হার প্রায় ১২ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব পরিসংখ্যান কারাগারে মুসলিমদের মোট উপস্থিতি তুলে ধরে; তাঁদের কতজন কারাগারে থাকাকালে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে না।
প্রতিবছর কতজন ইসলাম গ্রহণ করেন?
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে প্রতিবছর কতজন বন্দী ইসলাম গ্রহণ করেন, তা নিয়ে বিভিন্ন বই ও পুরোনো প্রতিবেদনে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজারের মতো সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও মোট ধর্মান্তরের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে দেশব্যাপী পরিচালিত কোনো পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য জরিপ নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা হিসেবে এগুলো উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিবিএস নিউজের ‘সিবিএস মর্নিংস’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার বন্দী ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে কারাবন্দীদের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় সহায়তা প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থা তাইবা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটির পরিচালক জানান, তারা ১৩ হাজারের বেশি বন্দীকে সেবা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ কারাগারে থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে এই হিসাবটি সংস্থাটির সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সব কারাগারের সামগ্রিক পরিসংখ্যান নয়।
কেন ইসলামের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন বন্দীরা?
কারাগারে ইসলাম গ্রহণের পেছনে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও কারণ থাকতে পারে। গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মসংযম, মানসিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলাবোধ এবং সামাজিক বন্ধন তৈরির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়মিত অনুশীলন বন্দীদের দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আনতে সহায়তা করতে পারে। রোজা আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি জামাতে নামাজ, ধর্মীয় আলোচনা এবং সহবন্দীদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন গড়ে তোলে।
ধর্মীয় শিক্ষা বন্দীদের অতীতের ভুল নিয়ে আত্মসমালোচনা, জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া এবং মুক্তির পর নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রেরণাও দিতে পারে। তবে ইসলাম গ্রহণের পেছনে প্রত্যেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি এক নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১২ সালের জরিপে ৭৩ শতাংশ কারা-যাজক বলেছেন, বন্দীদের সফল পুনর্বাসনের জন্য ধর্মভিত্তিক কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফলাফল কারাগারে ধর্মীয় কার্যক্রমের সম্ভাব্য ভূমিকা তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলিম বন্দীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও ইসলাম গ্রহণের সঠিক জাতীয় সংখ্যা এখনো অজানা। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদন কারাগারে ধর্মীয় পরিবর্তনের প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দেয়; তবে দেশজুড়ে প্রতিবছর কতজন বন্দী ইসলাম গ্রহণ করছেন, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।