
খুদ্দামুল কুরআনের উদ্যোগে সুনামগঞ্জে ৬০০ শিক্ষার্থীর মাঝে কুরআন বিতরণ
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে একদম খুদে বিজ্ঞানী
মাদ্রাসা শিক্ষা মানেই কেবল ধর্মীয় শিক্ষা সমাজে প্রচলিত এমন ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে একদল ক্ষুদে শিক্ষার্থী। একদিকে পবিত্র কোরআন হিফজ, অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কাজ। এই দুইয়ের সমন্বয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে তানজীমুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা ‘বিজ্ঞান-সমন্বয় ২০২৬’-এ শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্কুলটির বালক শাখায় আয়োজিত এ বিজ্ঞান মেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা মোট ১৩৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করে। পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্থাপত্য ও পানি পরিশোধনসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্পগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য।
মেলায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, স্প্রিং পদ্ধতিতে তৈরি ভূমিকম্প-সহনশীল ভবনের মডেল এবং পানি পরিশোধন প্রকল্প। এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষার্থীদের বিশেষত্ব হলো, তারা ইংরেজি মাধ্যমের কেমব্রিজ শিক্ষাক্রমে পড়াশোনার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন হিফজ করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তাদের আগ্রহ প্রমাণ করে, যথাযথ সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে দুই ধারার শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশ সম্ভব।
বিজ্ঞান মেলায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্পের নামকরণ করা হয় মুসলিম বিশ্বের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও মনীষীদের নামে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাবির ইবনে হাইয়ান, আল-খোয়ারিজমি, আল-কিন্দি, আল-রাজি, আল-ফারাবি, ইবনুল হাইসাম, আল-বিরুনি, ইবনে সিনা, উমর খৈয়াম, ইবনে রুশদ ও নাসিরুদ্দিন তুসি। তাঁদের জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিজ্ঞানচর্চায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তুলে ধরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
আয়োজকেরা জানান, ‘নতুন দিগন্তের অনুসন্ধান, ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কোরআনের হাফেজদের আধুনিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণ ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। আজ যারা ছোট পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি কিংবা ভবন নির্মাণের নিরাপদ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে, যথাযথ সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তারাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।