
কর্জে হাসানা কী, এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
উম্মে হানী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭
দেবী দুর্গার প্রতিমা। ছবি: সময় সংবাদ
পৃথিবীর শূন্যতারও নিজস্ব ভাষা আছে। সেই শূন্যতার গভীরেই লুকিয়ে থাকে পূর্ণতার আভাস, সেখান থেকেই জন্ম নেয় প্রাণের স্পন্দন। অজ্ঞতা, অন্ধকার পেরিয়ে শুরু হয় সৃষ্টির যাত্রা। সেই সৃষ্টিকে রোধ করার সাধ্যই বা কার?
জরাজীর্ণ এই ধরায় মহিষাসুরমর্দিনীর আগমনী সুরও বেজে ওঠে এভাবেই। প্রতিমার চোখে পড়ে শেষ তুলির টান, তারপরই যেন জেগে ওঠেন ত্রিনয়নী পার্বতী। এ যেন অন্ধকারের বুক চিরে মঙ্গলময় আলোর ঝলকানি।
শরতের প্রকৃতির প্রতিটি অনুষঙ্গই জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। দুর্গতিনাশিনী দেবীর আগমনী সুর এখন চারপাশে। প্রতিমার চোখে শেষ তুলির আঁচড় পড়লেই পূর্ণ হবে অপেক্ষা।
তবে বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে দেবীর সম্পর্ক কি কেবল ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ? হয়তো তা নয়। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমা পায় প্রাণ, আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধর্মাচার ও ভক্তির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে আরাধনা।
ভক্তদের কাছে প্রতিমার চোখে প্রাণ প্রতিষ্ঠার মুহূর্তটি গভীর আবেগের। এক ভক্ত বলেন, ‘মায়ের চোখ দেখলে মনের মধ্যে আবেগ-অনুভূতি বেড়ে যায়। মায়ের কাছে এটাই প্রার্থনা করি, মা, তোমার কাজটা যেন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।’
সময়ের স্রোতে বদলায় মানুষের জীবন, বদলে যায় উৎসবের আয়োজনও। তবু মহামায়ার কাছে মানবসন্তানের চাওয়া বদলায় না। ঢাকের শব্দ, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে শরতের আকাশ। প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে বাঙালির চিরচেনা আনন্দের ঠিকানা। ভক্তদের আশা, দেবীর আগমনে মুছে যাবে সব অন্ধকার, দূর হবে অশুভ শক্তি। মানুষের মনে জাগবে ভালোবাসা, সাহস আর শুভবোধ।