
পাগলা মসজিদে ৬ বছর ধরে জমা পড়া স্বর্ণালঙ্কারের ওজন মাপছে প্রশাসন
মেহেদী হাসান বাপ্পী, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯

দেবী দুর্গার প্রতিমা। ছবি: সময় সংবাদ
আর মাত্র কয়েক দিন পরই জেলা ও মহানগরের মণ্ডপগুলোতে বেজে উঠবে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি। এরই মধ্যে বরিশাল নগরীর সদর রোডের জগন্নাথ দেবের মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা।
প্রতিমার গায়ে সোনালি ও উজ্জ্বল রঙের প্রলেপ দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কারিগররা। কারও কপালে ক্লান্তির ঘাম, আবার কারও নিপুণ তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে অসুর ও দেবী দুর্গার বাহনের অবয়ব।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল পর্ব। এর আগে বরিশালের সব পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় ও নান্দনিক কারুকার্যের কাজ।
প্রতিমায় রং দিয়ে জীবন্ত রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত প্রবীণ প্রতিমাশিল্পী রমেশ চন্দ্র পাল বলেন, ‘বছরের এই সময়টার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর এখন রঙের কাজ চলছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি, যাতে মায়ের প্রতিমাটি আরও জীবন্ত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।’
আরেক প্রতিমাশিল্পী বিমল পাল বলেন, ‘এবার প্রতিমার সাজসজ্জায় কিছু নতুনত্ব আনা হয়েছে। সোনালি ও উজ্জ্বল রঙের নিখুঁত ব্যবহারে মায়ের রূপ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। আশা করছি, আমাদের এই পরিশ্রম ভক্তদের মন কাড়বে।’
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগরী ও জেলায় এবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। জেলা ও মহানগরের ৬৩৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
জগন্নাথ দেব মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমাশিল্পীরা তাদের নিখুঁত শিল্পকলায় মণ্ডপকে প্রাণবন্ত করে তুলছেন।’
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা জানান, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য মণ্ডপগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল একযোগে কাজ করবে।’