
মদিনা সনদকে পাঠ্যভুক্ত করার দাবি
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫১

অন্যের দোষ দেখার আগে নিজের দোষ দেখুন। সংগৃহীত
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের বললেন, আমার হাতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আজ প্রতিশোধ নাও। চাইলে মাফও করতে পারো। কিয়ামতের দিন যেন আমার কাছে তোমাদের কোনো পাওনা না থাকে।
এক সাহাবি নিজের পুরোনো আঘাতের বদলা চাইলেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাদর সরালেন। সাহাবি আবেগে মোহরে নবুওয়াতে চুমু দিয়ে বললেন, আমাকে মাফ করুন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৭) যিনি নিজেকে এভাবে পেশ করলেন, তাঁর উম্মত হয়ে আপনজনের কাছে ক্ষমা চাইতে আমাদের বাধা কোথায়?
ঈমানের একটি মূলনীতি আছে। নিজের জন্য যা পছন্দ করবেন, অন্যের জন্যও তা-ই পছন্দ করবেন। আপনার অনুপস্থিতিতে কেউ দোষ খুঁজলে কষ্ট পান। তাহলে অন্যের বেলায় একই কাজ করেন কোন যুক্তিতে? এ দ্বৈতনীতি। এরই নাম মুনাফেকি।
থানবী রহ. গীবত থেকে বাঁচার সহজ পথ বলেছেন। অন্যের আলোচনাই করবেন না। কারণ শয়তান ধূর্ত। প্রশংসা করতে করতে সে বলাবে, লোকটা ভালো, তবে... এই তবে-তেই সব শেষ। আলোচনা গীবত হয়ে যায়।
অন্যের দোষ দেখার আগে নিজের দোষ দেখুন। অন্যের শাস্তি আপনি পাবেন না, আপনার সাজা আপনারই। কবরে একা থাকতে হবে নিজেকেই।
গীবত কঠিন, তবে সাধ্যের বাইরে নয়। সাধ্যের বাইরে হলে আল্লাহ তা হারাম করতেন না। আলোচনা গীবতের দিকে গেলে প্রসঙ্গ বদলে দিন। ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করুন।
মদপানকারী নিজেকে ভালো ভাবে না। কিন্তু গীবতকারীর মনে কোনো অস্বস্তি জাগে না। এতেই বোঝা যায়, গীবতের ভয়াবহতা আমরা অনুভব করি না।
আয়েশা রাযি. একবার ইশারায় বোঝালেন, সাফিয়্যা রাযি. বেঁটে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার এ কথার দুর্গন্ধ সাগরে মেশালে পুরো সাগর দুর্গন্ধ হয়ে যাবে। ইশারার গীবতও তাই কঠিন গুনাহ। (তিরমিজি)
বাঁচার উপায় তিনটি। গীবতের পরিণতি হৃদয়ে বসান। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন। দুই রাকাত সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর কাছে তৌফিক চান। শয়তান বলবে, কাল থেকে শুরু করো। আজই শুরু করুন। তবুও না পারলে নিজের ওপর জরিমানা ঠিক করুন, যেমন দুই রাকাত নফল বা সদকা।
গীবতের চেয়েও ভয়াবহ চোগলখুরি। এতে অন্যের ক্ষতির নিয়তে কথা লাগানো হয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, চোগলখোর জান্নাতে যাবে না। (বুখারি) দুই কবরবাসীর আজাবের ঘটনায় একজন পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচত না, অন্যজন চোগলখুরি করত। (মুসনাদে আহমদ) কারও গোপন কথা ফাঁস করাও চোগলখুরি। কারণ মজলিসের কথা আমানত।
জবানের এই দুই গুনাহে আজ পরিবারের পর পরিবার ভাঙছে। আল্লাহ আমাদের জবান হেফাজত করুন। আমিন।