
অতীত থেকে বিএনপিকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান নাহিদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৩

সারোয়ার তুষার এবং সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত, নারী অধিকার ও দলীয় গণতন্ত্র ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে এনসিপি থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগে দলটির কোনো সমস্যা দেখছেন না দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, তার পদত্যাগের কারণে এনসিপি খুব বেশি বিপাকে বা বেকায়দায় পড়বে না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। সেখানে দল ছাড়ার প্রধান চারটি কারণ তুলে ধরেন তিনি। এর আগে গেল ১১ মাস ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি বলে জানান এই নারী নেত্রী।
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দলটি। প্রতিষ্ঠার এক বছর যেতে না যেতেই এই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলো।
পদত্যাগের বিষয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের পরে এই দলটি যখন গঠিত হয় তখন রাষ্ট্রসংস্কারকে কেন্দ্র করে এই দলটা গঠন করা হয়েছে। শাসনকাঠামোর পরিবর্তন করবেন, শাসক পরিবর্তন করবেন না, এরকম একটি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল এই ২৬ নির্বাচন। কিন্তু পুরোনো সকল পক্ষ একত্রিত হয়েছিল এই নির্বাচনকে এমন একটি নির্বাচনে পরিণত করতে যাতে করে এই নির্বাচনটি আরেকটি ক্ষমতা বদলের নির্বাচনেই তুষ্ট থাকে। আমি মনে করি এনসিপি জোট করার মধ্য দিয়ে সে প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’
অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির এই নেত্রীর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দলীয় ফোরামসহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা সামান্তার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যে জোট গঠন করেছে সেটার ব্যাপারে তার দ্বিমত ছিল। কিন্তু তিনি দ্বিমতসহই দলে ছিলেন। এরপর লম্বা সময় আমরা তার নিষ্ক্রিয়তা দেখেছি। এনসিপি এই পদত্যাগের কারণে খুব বেশি বিপাকে পড়বে কিংবা বেকায়দায় পড়বে আমরা এরকম মনে করি না। আমাদের এই সিদ্ধান্তগুলো গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ছিল, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত যেদিকে ছিল সেদিকেই দল গেছে।’
উল্লেখ্য, এনসিপির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন সামান্তা। গেল ২৩ অক্টোবর কমিটি পুনর্গঠনের পর তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।