
গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ভারতীয় মন্ত্রীর মন্তব্য ভুল: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৬

জাময়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, মগবাজার
কলেবর বাড়াতে গিয়ে দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। প্রকাশ্যে আসছে দলের অন্তর্কোন্দল-সংঘাত, যা ডানপন্থি দলটির কাছে একদমই নতুন বাস্তবতা।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কমিটি গঠন নিয়ে গত সপ্তাহে সংগঠনটির কার্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় নগর সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। অনেকটা একই কায়দায় গত মার্চে সংঘর্ষে জড়ায় রাজশাহী জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষ।
এসব ঘটনায় দলের ভেতর থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয় আলোচনা-সমালোচনা। এমন ঘটনার পেছনে নেতৃত্বের নিয়মিত পরিবর্তন না হওয়া, স্থানীয় সংগঠন ও দলীয় সংসদ সদস্যদের দ্বৈরথ এবং সংগঠনে অবাধ প্রবেশের মতো বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে।
সময় সংবাদের কাছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বীকার করেন, দল বড় করতে গিয়ে খানিকটা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। তবে কোনো অপরাধকে সংগঠন প্রশ্রয় দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে দল অনেক বড় হয়েছে। এখন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে যোগ দিচ্ছেন। এসব ঘটনা একটা সাংগঠনিক সমস্যা। বিষয়টি আমরা অবগত আছি। অচিরেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। দলের আমির পরিষ্কার বলেছেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।’
তৃণমূলে এমন ঘটনার লাগাম টানতে কেন্দ্রের কঠোর নজরদারি রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মতের ভিন্নতা আমরা গ্রহণ করি। আমাদের এখানে ভিন্নমতের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ফোরামের বাইরে নয়। মানুষের সমাজে চাওয়া-পাওয়া, সম্মান, যশ-খ্যাতি এগুলোতে আমরা উৎসাহিত করি তো না-ই বরং আমাদের নীতিমালায় বলা রয়েছে, যিনি কোনো পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন তিনি সে পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’
জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারি বলেন, ‘আপনি দলের সদস্য হবেন অথচ সেই দলের সংবিধান মানবেন না, এটা হবেন না। নিয়ন্ত্রণ না থাকলে দল এতদিনে শেষ হয়ে যেত। শৃঙ্খলার কারণে আমাদের লোকেরা শহীদ হয়, কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু দলকে কেউ ভাঙতে পারে না।’
আট দশকের পুরানো জামায়াতে ইসলামী এবার যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে— তা নিয়ে সংগঠন সতর্ক রয়েছে বলেও জানান দলটির নেতারা৷