
১৬ অক্টোবর: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত যা ঘটেছিল
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮

কিশমিশ ভেজানো পানিকে অনেকে ‘সুপার ড্রিংক’ বলে অভিহিত করেন। ছবি: সংগৃহীত
কিশমিশ শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, এতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রাতে পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে সকালে কিশমিশ ও সেই পানি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি, কিশমিশ ভেজানো পানি কোনো জাদুকরী পানীয় নয়। এর কিছু সম্ভাব্য উপকার থাকলেও কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা, শুধু ভেজানো পানি পান করার উপকারিতার তুলনায় বেশি।
কেউ বলেন, এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কেউ বলেন রক্তস্বল্পতা দূর করে, আবার কারও দাবি—লিভার পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। এসব কারণেই কিশমিশ ভেজানো পানিকে অনেকে ‘সুপার ড্রিংক’ বলে অভিহিত করেন।
কিশমিশ ভেজানো পানির ৭টি সম্ভাব্য উপকারিতা দেখে নিন-
১. শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা: সকালে কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলে শরীরে তরল প্রবেশ করে। তবে সাধারণ পানির তুলনায় এই পানির বিশেষ হাইড্রেশন সুবিধা আছে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে: কিশমিশে খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে আঁশের বড় অংশ কিসমিসের মধ্যেই থাকে। তাই শুধু পানি না খেয়ে ভেজানো কিসমিসও খাওয়া ভালো।
৩. আয়রন গ্রহণে সহায়তা: কিসমিসে কিছু আয়রন থাকে, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজন। তবে কিসমিস খাওয়া বা এর পানি পান করলেই রক্তস্বল্পতা দূর হবে, এমন নয়।
৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ: কিসমিসে থাকা উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ভেজানো পানিতে এর কতটা থাকে, তা নির্ভর করে ভেজানোর পদ্ধতির ওপর।
৫. পটাশিয়াম সরবরাহ: কিশমিশে পটাশিয়াম রয়েছে, যা পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
৬. দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে: কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা শরীরকে শক্তি দেয়। সকালে নাশতার সঙ্গে পরিমিত কিশমিশ খেলে এটি সহজলভ্য শক্তির উৎস হতে পারে।
৭. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক: সকালে পানি পান ও পরিমিত শুকনো ফল খাওয়ার অভ্যাস দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করা বা লিভার পরিষ্কার করার বিশেষ ক্ষমতা এই পানির প্রমাণিত নয়।
কীভাবে কিশমিশ ভেজানো পানি তৈরি করবেন?
১. ৮–১০টি কিশমিশ পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
২. এক গ্লাস পানিতে কিসমিসগুলো দিয়ে ঢেকে ৬–৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। পরিষ্কার পাত্রে ফ্রিজে রাখলে আরও নিরাপদ।
৩. সকালে পানি পান করতে পারেন এবং ভেজানো কিশমিশগুলোও খেয়ে নিন। খালি পেটে খেতেই হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই।
কারা সতর্ক থাকবেন?
- ডায়াবেটিস থাকলে: কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা বেশি। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা খেয়াল রাখুন।
- কিডনির রোগ থাকলে: পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বেশি কিশমিশ খাবেন না।
- ওজন কমাতে চাইলে: কিশমিশের পানি ওজন কমায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। মোট ক্যালরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- রক্তস্বল্পতা থাকলে: শুধু কিশমিশের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন।