
২৩ অক্টোবর: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত যা ঘটেছিল
ওয়েব ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২

হৃদ্রোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম না-ও হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে হৃদ্রোগের উপসর্গ কিছু ক্ষেত্রে আলাদাই। হৃদ্রোগ প্রায়শই নীরব ঘাতক, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝা যায় না বা উপেক্ষা করা হতে পারে।
নারীদের হার্ট অ্যাটাক হলে হৃৎপিণ্ড ঘিরে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। দেহে নানা লক্ষণ ফুটে ওঠে। হৃৎপিণ্ডের চারপাশে চর্বি জমতে থাকে এবং তা যখন বেড়ে যায়, তখনই হাঁসফাঁস করে হৃৎপিণ্ড। তার পরেই বুকে ব্যথা, রাতে শুয়ে দমবন্ধ হয়ে আসার লক্ষণ দেখা দেয়।
নারীদের হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, তা নিয়ে গবেষণা দীর্ঘদিনের। এর নেপথ্যে যেমন জীবনযাত্রায় অসঙ্গতি একটি কারণ, তেমনই হরমোনের গোলমালও অন্যতম বড় কারণ। সে বয়স যতই হোক না কেন। নারী শরীরের হরমোনের তারতম্য পুরুষের চেয়ে আলাদা। তাই হৃদ্রোগ হওয়ার কারণ ও বিশেষ কিছু উপসর্গও আলাদা। সেগুলি না চিনলেই বিপদ ঘটতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের কারণ
হৃৎপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাধা পেলে হৃদ্পেশিতে প্রচণ্ড প্রদাহ হতে থাকে, একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, যা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, নারীদের এটি হওয়ার কারণ হলো হার্টের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বির স্তর। হার্টের যে বাইরের আবরণী থাকে, তাকে বলে পেরিকার্ডিয়াম। এর মাঝে যে চর্বির স্তর জমা হয় তাকে বলে ‘এপিকার্ডিয়াল অ্যাডিপোজ টিস্যু’। এটি হার্টকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই চর্বির স্তর বাড়তে থাকে, তখন হার্টে চাপ পড়ে। ফলে রক্তের প্রবাহ বাধা পেতে থাকে। সাইটোকাইন নামে এক ধরনের প্রোটিন বার হতে থাকে যা প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। এই কারণেই বুকে ব্যথা হতে থাকে, শ্বাসকষ্টও শুরু হয় অনেকের।
হার্টের চারপাশে জমা চর্বি যদি ধমনীতে গিয়ে জমতে থাকে, তখন বিপদ আরও বাড়ে। এই চর্বির স্তর জমাট বেঁধে রক্তের প্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হয়।
কী কী লক্ষণ দেখে হার্ট অ্যাটাকের ব্যাপারে সতর্ক হবেন
বুকে চিনচিনে ব্যথা, সঙ্গে ঘাড়ে, চোয়ালে, পিঠে, কাঁধে ও পেটের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা হতে পারে। শ্বাসকষ্ট শুরু হবে যখন-তখন। রাতে ঘুমের সময়ে দমবন্ধ হয়ে আসবে।
বিশ্রামের সময়েও প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ঝিমুনি, শরীরে অস্বস্তি। ঘন ঘন অম্বল, বমি ভাব, যা সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা ভেবে ভুল করেন অনেকে। বাহুতে ব্যথা বা অস্বস্তির অনুভূতি, অতিরিক্ত ঘাম, হঠাৎ করে মাথা ঘুরে যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেবে।