
নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে আন্দোলন কেন আধুনিক ভারতে নজিরবিহীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩

পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইসলামাবাদে নিজের বাসভবনে বিরোধী দলের নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান।
বৈঠকে সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এবং সাবেক জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রস্তাবিত সর্বদলীয় সম্মেলনে (এপিসি) অংশ নেওয়ার জন্য ফজলুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।
পিটিআই’র লংমার্চে সমর্থন জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের পরিকল্পিত লংমার্চে সরকারের বাধা দেওয়া উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গণতান্ত্রিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘লংমার্চ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং পিটিআইকে সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত।’ পিটিআই শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে ঘোষণা দিলে তাদের ওপর আস্থা রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন জেইউআই-এফ প্রধান।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংযম ও বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার বিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা আলোচনার অংশ ছিলাম না, তবে নীতিগতভাবে আমরা সংলাপের বিরোধিতা করি না।’
তিনি আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সমান অধিকার থাকা উচিত। কোনো একটি পক্ষ এককভাবে দেশপ্রেমের অধিকার দাবি করতে পারে না। সবাই পাকিস্তানি এবং সবাই দেশপ্রেমিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সংবিধান ও রাষ্ট্রের পাশে রয়েছেন।
সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, প্রস্তাবিত সর্বদলীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো একটি ঐকমত্যভিত্তিক কর্মসূচি তৈরি করতে চায়। পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক পরামর্শ ও আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা বলেন, বলপ্রয়োগের কারণে জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ইমরান খানের সংগ্রাম সংবিধান ও আইনের শাসনের জন্য। এ লড়াইয়ে তারা জয়ী হবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ করার শর্ত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমি এখনো তাদের বোধোদয় হওয়ার আহ্বান জানাই। লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ করুন। এগুলো বন্ধ করার পর আমরা অবশ্যই আপনাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।’
সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে এই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
পিটিআইকে রাষ্ট্র ‘জিম্মি’ করতে দেওয়া হবে না: রানা সানাউল্লাহ
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে রাষ্ট্রকে ‘জিম্মি’ করে পিটিআই সরকারকে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে আলোচনাকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
রানা সানাউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও মঙ্গলবার পিটিআই নেতৃত্বকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিত্যাগ করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে চাপ প্রয়োগ বা জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা যাবে না।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) এই নেতা দাবি করেন, শান্তি বাধাগ্রস্ত করতে পিটিআই ‘সফল’ হয়েছে। রাজনীতিতে পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ‘অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: ডন ও এক্সপ্রেস নিউজ