
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে হুতির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১

বুরকিনা ফাসোতে সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে তরুণ নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বুরকিনা ফাসোতে দেশব্যাপী রূপচর্চা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে দেশটির সরকার।
চলতি বছরের জুনে জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলাকালীন সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে।
এরপর আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ নামের একটি প্রতিযোগিতার সূচনা হয়, যার লক্ষ্য মেধাবী তরুণী ও নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা ও পুরস্কৃত করা। প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে মোট ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন, যেখানে সেরাদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করেন।
এই পদক্ষেপ দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা যে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্যই এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রটিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার নজর কাড়ে। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা ও পেশা বেছে নিতে তরুণীদের অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা থাকায় অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কেউ কেউ এটিকে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। ইনস্টাগ্রামে এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এটি সত্যিই দূরদর্শী উদ্যোগ! ভাবুন তো, এটি কত তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে! দারুণ!’
আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, ‘আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই! তিনি নিজের দেশের জন্য কাজ করছেন। একজন নারীকে শিক্ষিত করলে পুরো পরিবার শিক্ষিত হয়। তা ছাড়া, সৌন্দর্যশিল্প যত মেয়ের ক্ষতি করেছে, উপকার করেছে তার চেয়ে বেশি।’
তবে এই সিদ্ধান্ত নারীর স্বাধীনভাবে পছন্দ করার অধিকার নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি করে। কেউ কেউ যুক্তি দেন, বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করার অর্থ এই নয় যে সৌন্দর্যচর্চা ও নারীত্বকে উপেক্ষা করতে হবে।
তাদের মতে, নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী হওয়া এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এক্সে এক পোস্টে বলা হয়, ‘দুটোই কেন নয়? নারীত্ব ও সৌন্দর্যকেও উদ্যাপন করা উচিত!’
তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট