
বসকে এসব বলছেন না কেন? ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৯

ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে মার্কিন অর্থ বিভাগ সতর্ক করেছে, ইরান সরকারকে সহায়তাকারী যে কারও বিরুদ্ধে তারা ‘ব্যবস্থা’ অব্যাহত রাখবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা বন্ধ করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের সাফল্য এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার একদিন পর নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিল মার্কিন অর্থ বিভাগ। ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভের মধ্যেই নির্বাচনে এ ফল এসেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছিল, তাদের নেওয়া পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বুধবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে ভারত-ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং ওই দম্পতির দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরও দুই ভারতীয়কে। এ ছাড়া সুনীল শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, শর্মার নেতৃত্বাধীন একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্ক’ ইরানের তেল পরিবহনে জড়িত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোকে ভুয়া পতাকা ও সনদপত্র সরবরাহ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।
ভুয়া পতাকা ও জাল সামুদ্রিক সনদপত্রের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের কোনো ক্ষতিপূরণমূলক বীমাও থাকে না। ফলে কোনো দেশের জলসীমায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশটির বিমান চলাচল খাতকে অব্যাহতভাবে সহায়তা করার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথায় আছেন, তা আমরা জানি। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।’
অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ব্রেট এরিকসনের মতে, বুধবারের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে। নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা সত্ত্বেও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রয়টার্স বলছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অধিকাংশ ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতা সম্প্রসারিত করে এমন সব প্রতিষ্ঠানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর অন্তত ৫০ শতাংশ মালিকানা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে।
এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পাঠানো অনুরোধেরও জবাব দেয়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র: রয়টার্স