
ইরানে ‘৯৬ ঘণ্টার মধ্যে’ বড় অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮

জাতীয়তাবাদী নেতা আলেকসান্ডার ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে সার্বিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে। ছবি: রয়টার্স
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দল। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোটের পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার আগেই পরাজয় স্বীকার করেছেন ভুসিচ।
জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।
তবে দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। ২০২৪ সালে দেশটির নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই ঘটনায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামনে আসে।
টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ভুসিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি। শিক্ষার্থীদের বাছাই করা প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে।’
ভুসিচের পরাজয় স্বীকারের ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। গাড়ির হর্ন, নাচ আর শিক্ষার্থীদের ‘বিজয়’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।
প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের এই জয়কে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনাটির সঙ্গেও এর তুলনা করা হচ্ছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাব নিয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর জন্যও সার্বিয়ার এই জয় নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে শিক্ষার্থীদের ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।
শিক্ষার্থীদের সদর দফতরে বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাজচিচ বলেন, ‘প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্যাপন করছি, আগামীকাল থেকে ভবিষ্যৎ গড়ব।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ও কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন এবং সম্প্রসারণবিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে ভন ডার লেন বলেন, সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।
সূত্র: রয়টার্স