
উত্তর ইসরাইলে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩১

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় যোগ দেন বিরোধী দলগুলোর সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় মিছিল করেন বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীরা। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তারা।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং জাল এন্ট্রি বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই দাবি মানছে না বিরোধীরা।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি জেন-জি তথা তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরাও রাস্তায় নেমেছেন। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা উপেক্ষা করে তারা ভোটার তালিকা সংশোধন বন্ধ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ নয়াদিল্লির বারাখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন বিরোধী নেতারা।
প্রতিবেদন মতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা।
আবেদন জমা দেওয়া নেতাদের মধ্যে আরও ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সৌগত রায়, অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী প্রসাদ যাদব।
টানা তৃতীয় দিনের মতো সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় হাজারো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভারী ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়।
পদযাত্রার আগে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মানুষকে দিল্লিতে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লিকে একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’ নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে।
সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করেন বিরোধীরা। এতে হাজার হাজার মানুষ নেন। পদযাত্রায় অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের একজন ২৮ বছর বয়সি অভয় আরিয়ান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, ইতোমধ্যে কত বড় জনসমাগম হয়েছে। সরকারের জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে হবে।’
মেহভাইশ নামে পরিচয় দেওয়া এক বিক্ষোভকারী বলেন, মোদি সরকারের অবিচার আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘গত ১২ থেকে ১৩ বছরে আমরা যে অবিচারের শিকার হয়েছি, তার কারণে এই সরকারকে সরাতে চাই। এখন যদি আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আর কী থাকবে?’
মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকদের অভিযোগ, এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার সময়ে মোদি সরকার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংকুচিত করেছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি