
গাজাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ, দুই শিশুসহ নিহত ৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪

গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত দিল্লির ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করতে ছয় দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভূমি ও উন্নয়ন দফতর (এল অ্যান্ড ডিও) মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত’ স্থাপনা উল্লেখ করে এ নোটিশ দেয়।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মসজিদে নামাজ আদায় ও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রয়েছে মসজিদটি। তবে ভূমি ও উন্নয়ন দফতরের অভিযোগ, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত।
এদিকে রেসকোর্স মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে ‘জমিয়তে উলামায়-ই হিন্দ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কিরেন রিজিজুরের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে উল্লেখ করা এনডিএমসির ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে। সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত সংশোধিত তালিকাতেও এর উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড ও এনডিএমসির প্রতিবেদন চেয়েছে জমিয়ত। আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙার কোনো পদক্ষেপ না নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিয়তের দাবি শুনেছেন কিরেন রিজিজু। বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব কিছু কজরার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেসকোর্স মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাস ধরে তিনি দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে বিষয়টি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেয়া ছাড়া সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বোর্ড।
হারুন বলেন, ‘ওয়াক্ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছি, কিন্তু আমার অভিযোগে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এখন খাওয়ার পানিও শেষ হয়ে গেছে। মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়ায় কোথাও থেকে পানিও আনা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াক্ফ বোর্ডকে এ বিষয়ে আদালতে যেতে বলেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, ওয়াক্ফ বোর্ড আদালতে যায়নি, আবার আমাকেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।’
সূত্র: দ্য ওয়্যার