
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮

সৌদি আরবের মক্কায় গত ৭ আগস্ট যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছরের আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মক্কা চুক্তি কার্যকর করা হয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চলমান অভিযানে সহায়তা করছে সৌদি। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চুক্তির শীর্ষ কমিটি পাকিস্তানি ও তুর্কি সেনাদের সৌদি আরবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতাগুলো সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। অনুমোদিত ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জাতীয় আইন অনুযায়ী এসব বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েন নিশ্চিত করা হবে।’
তবে বিবৃতিতে সেনাদের সংখ্যা বা তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সহায়তার জন্য ১০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। লক্ষ্য, গত মাসে হুতিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যেই এতে ভূমিকা রাখছে।
সোমবার রাতে রিয়াদ থেকে জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজা আসিফ বলেন, ‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের বাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমরা অবশ্যই গোয়েন্দা নজরদারি ও এ ধরনের কাজে যুক্ত আছি। তবে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করছে সৌদি আরবের নিজস্ব বাহিনী এবং তারাই ওই এলাকাগুলো পুনর্দখল করছে।’
এর ফলে সৌদি বাহিনী যখন আক্রমণাত্মক অভিযান চালাচ্ছে, তখন পাকিস্তানের ভূমিকা আপাতত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকেরা আল জাজিরাকে বলেছেন, এতে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, যার উত্তর ইসলামাবাদ এখনো প্রকাশ্যে দেয়নি: সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে পাকিস্তান কতদিন দূরে থাকতে পারবে?
সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়। ১৯৬৭ সাল থেকেই পাকিস্তান সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
১৯৮৫ সালের জুনে প্রকাশিত একটি অবমুক্ত সিআইএ মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, সৌদি সেনাবাহিনীতে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পাকিস্তানি সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের মধ্যে তাবুকে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেডও ছিল।
১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে বড় একটি সামরিক দল পাঠিয়েছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, যেকোনো একটি দেশের ওপর আগ্রাসন উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এপ্রিল মাসে রিয়াদ নিশ্চিত করেছিল, পাকিস্তানি একটি বাহিনী, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানও ছিল, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। সৌদি আরবে ঠিক কতসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা রয়েছে, তা কখনো প্রকাশ করেনি ইসলামাবাদ।
সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে জানান, পাকিস্তানি বাহিনী এরই মধ্যে সৌদি আরব ও দেশটির পবিত্র স্থানগুলো সুরক্ষায় মোতায়েন রয়েছে।
চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখানে ‘শারীরিকভাবে’ শব্দটির ওপর জোর দিতে চাই। আমরা যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।’ রিয়াদের বৈঠকে সম্মত নতুন মোতায়েনের বিষয়ে আল জাজিরার মন্তব্যের অনুরোধে আইএসপিআর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, পবিত্র স্থান ও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার নিয়ে কোনো আপস নেই।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রকৃত কার্যক্রমের বিবরণ গোপনীয় এবং তা গণমাধ্যমের অনুমান-নির্ভর আলোচনার বিষয় করা যাবে না।’
তুরস্কের সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি অবশ্য আরও অস্পষ্ট। কাজা আসিফ বলেছেন, তুরস্কের সেনারাও সেখানে রয়েছে। তবে আঙ্কারা প্রকাশ্যে কোনো মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ইস্তাম্বুলের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ গোকহান এরেলি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সৌদি আরবে তুরস্কের কোনো স্থায়ী সেনা মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকৃত নয়।’
এরেলি জানান, তুরস্কের সংবিধানের ৯২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশে সেনা পাঠানোর ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে। অথচ তুরস্কের পার্লামেন্ট এখনো মক্কা চুক্তির অনুমোদন দেয়নি।
গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক দানিয়া থাফের বলেন, রিয়াদ চায় মক্কা চুক্তির বাস্তব সামরিক গুরুত্ব থাকুক। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সৌদি আরব মক্কা চুক্তিকে একটি রাজনৈতিক ঘোষণার জায়গা থেকে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থায় রূপ দিতে চাইছে।’
তার মতে, আপাতত রিয়াদের মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তান ও তুরস্ককে সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে দেখানো হবে, সৌদি আরবে আরেকটি হামলা কেবল সৌদি-হুথি সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে না।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বিধিনিষেধ থাকায় সৌদি আরব যে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল রফতানি করছে, সেটিসহ দেশটির একাধিক শহর ও স্থাপনায় হুথিরা হামলা চালিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির দুটি বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান বৈঠকের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা থাফেরের ধারণার চেয়েও বিস্তৃত।
তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘জোটের কাঠামোর আওতায় হামলা এবং এর জন্য দায়ী সবাইয়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে।’
থাফের বলেন, এই শব্দচয়ন ইচ্ছাকৃত। তার ভাষায়, ‘এর জন্য দায়ী সবাই’ কথাটি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে হুথিদের জানানো হচ্ছে, সৌদি আরব শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং হামলা সক্ষম করে এমন যেকোনো পক্ষ বা অবকাঠামোতেও আঘাত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বাইরের পৃষ্ঠপোষকদের জন্যও সতর্কবার্তা যে রিয়াদ পুরো সহায়তা নেটওয়ার্কের ওপর নজর রাখছে।’
তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ২ অক্টোবর ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নথিটিতেই প্রথমে বলা হয়েছে, এটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। এর কোনো আক্রমণাত্মক কর্মসূচি নেই।’
ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিনের মতে, পাকিস্তানের অবদান সম্ভবত বড় আকারের না হয়ে বিশেষায়িত হবে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘পাকিস্তান সম্ভবত বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন, যুদ্ধক্ষেত্রের যোগাযোগব্যবস্থা এবং আক্রমণাত্মক সাইবার বিশেষজ্ঞ দিয়ে বিদ্যমান উপস্থিতি বাড়াবে। মাইন স্থাপন ও অপসারণের জন্য ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্য এবং কিছু বিশেষ বাহিনীর সদস্যও থাকতে পারে। আমি মনে করি এর চেয়ে বেশি কিছু হবে না।’
এরেলিও মনে করেন, তুরস্কের ভূমিকা একইভাবে সীমিত থাকবে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া হবে পরিমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থলভিত্তিক নয়। এর মধ্যে থাকবে কূটনৈতিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, জরুরি ভিত্তিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সম্ভবত নৌ বা বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা।’
থাফের বলেন, এখন পাশাপাশি দুটি অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ‘মূলত দুটি পরস্পরকেন্দ্রিক অভিযান চলছে। একটি হলো সৌদি আরবকে রক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো ইয়েমেনের ভেতরে সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করা, যাতে হুথিরা ক্রমবর্ধমান শক্তির অবস্থান থেকে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যেতে না পারে।’
পাকিস্তান প্রকাশ্যে জানায়নি, তাদের ভূমিকা ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোমে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ইয়েমেনে হামলায় অংশ নিয়েছে কি না। আসিফ সরাসরি প্রশ্নটির উত্তর দেননি।
তিনি বলেন, ‘আমি বিস্তারিত বলতে যাচ্ছি না। তবে যখন আমি বলি, সৌদি আরবকে রক্ষা করতে আমরা এই ব্যবস্থার আওতায় বাধ্য, তার অর্থ হলো আমাদের হাতে থাকা যেসব উপায় রয়েছে, সেগুলো সৌদি আরবের জন্যও ব্যবহার করা হবে।’
এর আগেও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ‘ইয়েমেন সংঘাতে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ থাকা উচিত, যাতে সংকটের অবসানে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করা যায়।’
তবে ওই সিদ্ধান্তে এটিও বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হলে অথবা পবিত্র স্থানগুলো হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে থাকবে।
সোমবারের যৌথ বিবৃতিতেও একই ধরনের যুক্তিতে সেনা মোতায়েনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে।
তেহরানও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইয়েমেনে যুদ্ধের জন্য পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের খবর সত্য নয় বলে তেহরান আশা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে কোনো হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
গত সপ্তাহের একই সংবাদ সম্মেলনে দার জানান, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তিনি মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দার বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি যে আমরা একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ এবং মুসলিম হিসেবে আমাদের এটি সম্মান করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা তা করব।’
তিনি জানান, ইরানি নেতারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সোমবারের বিবৃতিতে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উল্লেখ করা হয়নি।
তেহরানের পারস্য উপসাগরীয় স্টাডিজ গ্রুপের বিশ্লেষক জাভাদ হেইরান-নিয়া বলেন, ইরান এ ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট পার্থক্য করে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণভাবে, পাকিস্তানের মোতায়েন যদি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হয় এবং সৌদি স্থাপনাগুলো সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তেহরান তা মেনে নিতে পারে। তবে পাকিস্তান যদি হুথিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে যোগ দেয়, ইরান সেটিকে লাল রেখা হিসেবে দেখবে। কারণ তারা হুথিদের আরব উপদ্বীপে নিজেদের কৌশলগত গভীরতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিরপেক্ষতা থেকে সরে গিয়ে বিরোধপূর্ণ স্বার্থ ব্যবস্থাপনার দিকে চলে গেছে এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত নাজুক।’
ইয়ামিনও বলেন, এখন দায়িত্ব ইসলামাবাদের ওপর। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে খুব সতর্কভাবে নিজেদের সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে তাদের সেনারা হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত তারা কীভাবে এতে জড়াবে তা নয়, বরং কীভাবে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেদের রক্ষা করবে।’
ইয়েমেন নিয়ে রিয়াদের লক্ষ্য কী, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। থাফের বলেন, ‘রিয়াদ সম্ভবত এমন একটি স্বল্পমেয়াদি, উচ্চমাত্রার অভিযান চায়, যা তাদের প্রতিরোধক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ইয়েমেন যুদ্ধের সূচনা করবে না।’
তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের দখলে যাওয়া এলাকা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই তাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ রাখছে না। বরং তারা রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যেও এগোচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সানা।
থাফের বলেন, ‘সামরিক অভিযান নির্ধারিত হয় লক্ষ্য অনুযায়ী। সৌদি ভূখণ্ড ও বাব আল-মান্দাব নিরাপদ করা সম্ভবত সীমিত পরিসরের অভিযান হতে পারে। কিন্তু হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা বা সানা পুনর্দখলের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সম্ভাব্যভাবে অনেক দীর্ঘ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।’
আল জাজিরার বিশ্লেষণ