
দিল্লিতে ৭ দিনের জেল শেষে মুক্তি পাচ্ছেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৬

নয়াদিল্লির রেস কোর্স মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিল্লির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদকে গেল সোমবার (১৯ অক্টোবর) উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, স্থাপনাটি সরকারি জমিতে নির্মিত এবং এটি ‘অননুমোদিত’।
দ্য ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল।
প্রতিবেদন অনুসারে, রেস কোর্স মসজিদটি নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত।
স্থানীয় ভূমি ও উন্নয়ন দফতর মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয়দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই কার্যালয়টি কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং এটি সরকারি মালিকানাধীন ও ইজারা নেওয়া সম্পত্তি, বিশেষত দিল্লিতে অবস্থিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মসজিদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে সেখানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি জানান, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে একটি ‘গেজেটেড ওয়াকফ সম্পত্তি’।
তিনি যুক্তি দেন যে, ওয়াকফ সংশোধনী আইনের অধীনে মসজিদটি ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ (ব্যবহারজনিত ওয়াকফ) হিসেবে সুরক্ষিত। এটি এমন এক পরিভাষা, যা এমন সম্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় উদ্দেশে ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
ওয়াইসি বলেন, অতীতে যেসব সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল, সেগুলো সংশোধিত আইনের অধীনেও সুরক্ষিত থাকবে।
ওয়াকফ হলো ইসলামি আইন অনুযায়ী এমন এক এনডাউমেন্ট বা স্থায়ী অনুদান, যা কোনো ধর্মীয়, শিক্ষামূলক বা দাতব্য উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে একটি ওয়াকফ বোর্ড থাকে, যা একটি আইনি সত্তা হিসেবে পরিচালিত হয়। এই সত্তার সম্পত্তি অর্জন, ধারণ এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা রয়েছে।
ইসলামি সংগঠন ‘জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ’-এর একটি প্রতিনিধি দল সোমবার রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদ ও তার সংলগ্ন কবরস্থানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তার হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, রিজিজু প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেস কোর্স রোড এলাকায় (যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন অবস্থিত) চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে মসজিদটিকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের আওতায় বস্তিবাসীদেরও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।