
সৌদি-ইয়েমেন উত্তেজনায় লাভ হবে ইসরাইলের, আঞ্চলিক শান্তির আহ্বান ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৯

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে এবং একটি বিশেষ নিরাপত্তা দলের সুরক্ষায় থাকছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে রিয়াদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং তা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি রাজধানী যখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তখন ৪১ বছর বয়সি যুবরাজ তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে সবশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল গত মঙ্গলবার; সেদিন একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি রক্তদান করেন।
ক্রমবর্ধমান হামলার ফলে রিয়াদের কিছু এলাকা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। শহরের আর্থিক এলাকার কর্মী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের ভবন থেকে সরে যেতে অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দ্য জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার (মিসাইল ইন্টারসেপ্টর) মজুদ কমে আসছে। বিশাল এলাকা রক্ষা এবং একই সাথে একাধিক স্থানে হামলার হুমকির মুখে সৌদি আরব রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানগুলোর মধ্যে তাদের আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা 'এয়ার-ডিফেন্স ব্যাটারি' স্থানান্তর করছে।
এই ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মোহাম্মদ বিন সালমান তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচি নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে আছেন। বছরের পর বছর ধরে যুবরাজ সৌদি আরবকে পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন; এ লক্ষ্যে তিনি ‘নিওম’-এর মতো ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়ন প্রকল্প এবং রিয়াদের বিভিন্ন বড় নতুন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে। হুতির হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন, যার মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে তেল রফতানি করতে পারে।
হুতিরা লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করেছে, যা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ