
ডিভি লটারি: বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৮

সম্পদের হিসাবে ভারতের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া-য় (এসবিআই) সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রতীকী ছবি
সম্পদের হিসাবে ভারতের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) সন্দেহভাজন সাইবার হামলার পর এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় ব্যক্তিগত তথ্যসহ হাজারো গ্রাহকের রেকর্ড ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক নথিতে ব্যাংকটি জানায়, প্রাথমিক বিশ্লেষণে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত প্রায় ৪ হাজার রেকর্ড শনাক্ত করা হয়েছে। তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করছে এসবিআই।
ব্যাংকটি আরও জানায়, প্রাথমিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ডার্ক ওয়েবে পাওয়া প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা ভারতের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করছে এবং ক্রমবর্ধমান পরিমাণে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর ফলে এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে, গেল জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অব বারোদা-ও একই ধরনের ঘটনার তথ্য জানিয়েছিল।
গ্রান্ট থর্নটন ভারতের অংশীদার বিবেক আইয়ার বলেন, ‘আর্থিক পরিষেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন, বিশেষ করে ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির ক্ষেত্র ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করলেই হবে না, তাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনাকেন্দ্রগুলোকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বারবার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করতে পারে।
ভারতের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত এসবিআই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া রেকর্ডে গ্রাহকদের নাম, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, ইমেইল ও বাসার ঠিকানা ছিল। এ ছাড়া শাখা ও গ্রাহক শনাক্তকরণ নম্বর এবং ঋণসংক্রান্ত রেকর্ড ও সম্ভাব্য গ্রাহকদের তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রাহক ও ব্যাংকের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তবে এসবিআই বলেছে, এ ঘটনায় ব্যাংকটির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক ফলাফল কিংবা ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতার ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট